তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: শিয়রে পুরভোট। ভোট ঘোষণার আগে আবাস যোজনা নিয়ে উঠল স্বজনপোষণের অভিযোগ। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর পুরসভার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল। আর এই বিষয়টি নিয়েই এবার ভোটের প্রচারে হাতিয়ার করতে চাইছে বিরোধীরা।

শহরের ১ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার কাটানধার, নামোপাড়া-বৈলাপাড়া এলাকার গৃহহীনদের একটা বড় অংশের অভিযোগ, যাদের বাড়ি আছে তারা নতুন করে সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পাচ্ছেন, আবার কারও একতলা বাড়ি দোতলা হচ্ছে। কিন্তু বঞ্চিতরা রয়ে যাচ্ছেন বঞ্চিতদের দলেই।

শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মমতা ক্ষেত্রপাল। তিনি শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা পলিথিনের তাঁবুতে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে দিন কাটান। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, যাদের বাড়ি আছে তারা নতুন করে বাড়ি পাচ্ছেন। অসংখ্যবার আবেদনের পরেও তার বাড়ি মেলেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অনিল বাউরী তার খড়ের চালের উপর পলিথিন ঢাকা দেওয়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, চার বছর আগে আবেদন করেছি। কাউন্সিলরকে বললেও প্রতিশ্রুতি ছাড়া মেলেনি কিছুই। এই ভাঙাচোরা ঘরেই কষ্ট করে দিন কাটাতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আল্পনা ক্ষেত্রপাল নামে এক গৃহবধূর অভিযোগ, যাদের বাড়ি আছে, তাদেরই দেওয়া হচ্ছে। ভ্যানচালক স্বামীর সামান্য রোজগারে সংসার চলে। নতুন করে বাড়ি তৈরির সামর্থ্য নেই। ভাঙা বাড়ি আর পলিথিনের ছাউনীতেই দুই ছেলেকে নিয়ে ভয়ে ভয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। বিষয়টি বারবার কাউন্সিলরকে জানালেও কোনও কাজ হয়নি বলে তার অভিযোগ।

আর এই সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি। দলের নগর মণ্ডল সভাপতি উত্তম সরকারের অভিযোগ, প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত করে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও তাদের বাড়ি থাকা সত্বেও বাড়ি দেওয়া হচ্ছে। অথচ তালিকায় নাম থাকা সত্বেও অনেকে বাড়ি পাচ্ছেন না। আবাসযোজনায় স্বচ্ছতা আনার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সব ওয়ার্ডে সমানভাবে কাজ হচ্ছে। যারা এই অভিযোগ করছেন তারা দ্রুততার সঙ্গে বাড়ি চাইছেন। ‘সবাইকে সমান চোখে দেখা হয়’ দাবি করে কল্পিত অভিযোগ করা হচ্ছে বলে জানান। একই সঙ্গে বিজেপির তোলা অভিযোগও তিনি ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ওরা ভালো, বাকি সবাই খারাপ। বিজেপির এই কথা শুনতে শুনতে মানুষ বিরক্ত হয়ে গেছে, আর কেউ তা শুনতে চায়না বলে দাবি করেন তিনি।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ