স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা: ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে জঙ্গি নাশকতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই কাজে জঙ্গিদের আর্থিক সাহায্যের জন্য রীতিমত চাঁদা চাওয়া হচ্ছে ত্রিপুরার গ্রামে৷ ত্রিপুরা পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের প্রত্যন্ত মহকুমা বলে পরিচিত গণ্ডাছড়ায় এনএলএফটি জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই জঙ্গিরা অর্থ সংগ্রহের জন্য চাঁদা চেয়েছে গন্ডাছড়ার বোয়ালখালী গ্রামের উপজাতিদের কাছে।

জঙ্গিদের এহেন কার্যকলাপের খবর পেয়ে পুলিশ গন্ডাছড়ার বোয়ালখালী গ্রাম থেকে বেশ কিছু নথি ও চাঁদার স্লিপ উদ্ধার করেছে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ ত্রিপুরা সীমান্তে বিএসএফকে কঠোর নজরদারি রাখতে বলেছে ত্রিপুরা পুলিশ। অনুমান, নাশকতা চালাতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকেছে বেশ কিছু জঙ্গি৷ ঘাঁটিও গেড়েছে৷ মোটা টাকার চাঁদা চাওয়া হয়েছে বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে। অর্থ সাহায্য না করা হলে খুনেও হুমকি দেওয়া হয়েছে৷

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই ফের জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার ঘটনায় ত্রিপুরা প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷ যদিও, এর আগে একাধিকবার এই জঙ্গি-গোষ্ঠীর গুলির সঙ্গে আলোচনায় বসার সুযোগ তৈরি হয়৷ কিন্তু, বামফ্রন্ট সরকারকে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য দায়ী করেছে বিভিন্ন মহল। শান্তি আলোচনার তৃতীয় রাউন্ড কখন ডাকা হয়নি৷ জঙ্গি নেতা বিশ্বমোহন দেববর্মার উপস্থিতিতে শিলংয়ে আগের বৈঠকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যাতে দ্রুত সমাধান সুত্র বের করা হয়। বিষয়টি এনএলএফটি-বিএমের পররাষ্ট্র সচিব উৎপল দেববর্মা এবং কমান্ডার সুরন দেববর্মা’র তিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানানো হয়।

২০১৫ সালে এনএলএফটি-বিএমের সঙ্গে দুইটি শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ২য় রাউন্ডের সময় এনএলএফটি-বিএম প্রতিনিধিরা শান্তি আলোচনায় সাবেক জঙ্গি নেতা ও আইএনপিটি’র প্রেসিডেন্ট বিজয় কুমার রাংখলের উপস্থিতির অনুরোধ জানান। রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা তাতে একমত হননি৷ পরিবর্তে বিশ্বমমোহন দেববর্মা সম্পর্কে অনুসন্ধান করেছেন। এনএলএফটি (বিএম) প্রতিনিধি কোন সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি এই বিষয়ে।

- Advertisement -