তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: পুরভোট দরজায় কড়া নাড়ছে। ২০২০ সালে রাজ্যের অন্যান্য পুরসভার সঙ্গে বাঁকুড়াতেও ভোট। তার আগে বাঁকুড়া শহরের সৌন্দর্যায়নের লক্ষ্যে ‘গ্রিণ সিটি’ প্রকল্পে ২৪ টি ওয়ার্ডে ২২ হাজার এলইডি আলো লাগানোর উদ্যোগ নিল পুরসভা। আর এই নিয়েই শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী তর্জা।

২০১৩ সালে তৃণমূলেরই হাতে থাকে বিগত পৌর বোর্ড শহরের বিভিন্ন অংশে ‘ত্রিফলা’ আলো লাগায়। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই ওই ত্রিফলা আলোর অধিকাংশ নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় বর্তমানে অল্প খরচে সেগুলি সারাই না করে শহরে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে এলইডি বাতি লাগানোর নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছেন।

বিজেপি কাউন্সিলর নীলাদ্রি শেখর দানা বলেন, এর আগের পৌর বোর্ড তো ত্রিফলা আলো লাগিয়েছিল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন তা আর জ্বলেনা। সাধারণ মানুষের করের টাকা নিয়ে পৌরবোর্ড ‘লুঠতরাজ’ চালাচ্ছে অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, নতুন করে এলইডি আলো না লাগিয়ে ওই পুরনো ত্রিফলা গুলি সারিয়ে তুললে খরচ অনেক কম হত। ‘কাটমানি’ ছাড়া এখানে কিছু হয়না বলে তার দাবী। একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি বলেন, আগামী দিনে এই পৌরসভা বিজেপির দখলে আসতে চলেছে। সেদিন প্রকৃত উন্নয়ন কাকে বলে তারা দেখিয়ে দেবেন বলেও তার দাবী।

শহরের মাচানতলা এলাকার বাসিন্দা শেখ আজাদ বলেন, ত্রিফলা আলোই ভালো ছিল। এলইডি আলো প্রায়শই নষ্ট হচ্ছে। শহরের বাসিন্দা বাপ্পা দাসের কথায়, আলো লাগিয়েই দায় সারছে পৌরসভা। রক্ষণাবেক্ষণের কোন দায় তাদের নেই। ইচ্ছাকৃতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছেনা দাবী করে তিনি বলেন, এই গুলো নষ্ট হলে সরকারী কোষাগারের টাকা খরচ করে ফের নতুন করে আলো লাগানো হবে।

পৌরসভার চেয়ারম্যান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত এই বিষয়ে বলেন, সাড়ে আঠারো কোটি টাকা খরচ করে শহরে বাইশ হাজার এলইডি আলো লাগানো হচ্ছে। ওই টাকাতেই নতুন এলইডি আলো শুধু লাগানো হয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী সংস্থা আগামী সাত বছর ওই আলো রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করবে। বিরোধীদের ত্রিফলা নিয়ে বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন করে আলো লাগানোর ফলে ত্রিফলার প্রয়োজনীয়তা কমেছে। তার মধ্যেও ওই ত্রিফলা গুলি কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেই বিষয়ে তারা চিন্তা ভাবনা করছেন বলে তিনি জানান।