আর্কাইভ

কলকাতা: সারদা তদন্তে ফের তলব করা হয়েছে জামিনে মুক্ত কুণাল ঘোষকে৷ সিবিআই শিলং-এ তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছে৷ তার আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে সারদা তদন্তে রাজ্য সরকার গঠিত সিট-এর প্রধান রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন সংস্থায় মিডিয়া বিভাগের প্রধান কুণাল ঘোষ৷ সারদাকাণ্ডে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করান রাজীব কুমারকে৷

সারদা মামলায় জামিনে মুক্ত কুণাল ঘোষ জানান, আদালতের শর্ত ছিল তদন্তে সব ধরণের সহযোগিতার৷ সেই নির্দেশ মোতাবেক তিনি শিলং-এ যাবেন৷ মুখোমুখি হবেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারীকদের জিজ্ঞাসাবাদের৷ তবে ফেসবুক লাইভে তাঁর ভূমিকা নিয়ে এদিন কোনও কিছু বলতে চাননি সারদার গ্রুপ মিডিয়া সিইও৷

আরও পড়ুন: সিবিআই কর্তার স্ত্রীর সংস্থায় তল্লাশি কলকাতা পুলিশের

এদিন কথা বলার সময় অনেকটাই আবেগমোথিত ছিলেন কুণাল ঘোষ৷ বারে-বারে তাঁর কথায় উঠে আসে পরিবর্তনের প্রসঙ্গ৷ তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্নের কথা৷ তবে তাঁর চোয়াল শক্ত হয় রাজ্যের গঠন করা সিট প্রধান রাজীব কুমার প্রসঙ্গে৷ তাঁর অভিযোগ বহু ভুয়ো খবরের ভিত্তিতেই রাজীব কুমার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন৷ আর তাঁর যোগ্য সংগত দিচ্ছিলেন তৎকালীন বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা প্রধান অর্ণব ঘোষ৷ যিনি বর্তমানে মালদহ জেলার পুলিশ সুপার৷

ফেসবুক লাইবে এদিন কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘পুলিশ যে কাজ করেছে রাজীব কুমারের নেতৃত্বে তা ঠিক নয়৷ আমার বিরুদ্ধে মামলা সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ এক মামলা রয়েছে যে তার থেকে বরোতে পারছি না৷ বহু বাজে কথা রয়েছে তার মধ্যে৷’’ আক্ষেপের সুরে তিনি জানান সেই অভিজ্ঞতার কথা ভোলার নয়৷

সারদা মামলায় জামিনে মুক্ত কুণাল ঘোষের কথায় উঠে আসে বেশ কয়েকটি উদাহরণের প্রসঙ্গ৷ তিনি জানান, গ্রেফতারের পর তাঁকে প্রথমে বিধাননগরের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় রাখা হয়৷ সেই সময় ওই থানার ওসির-ও প্রশংসা শোনা যায় কুণালবাবুর মুখে৷ বলেন ওসির-র নির্দেশেই সেই রাতে পুলিশ জেলে না রেখে তাঁকে প্রথমে রাখা হয় জেলের পাশের একটি ঘরে৷ তবে অর্ণব ঘোষের নির্দেশেই গভার রাতে তাঁকে জেলে পাঠানো হয়৷ এছাড়াও বারাসত, চন্দননগর, সাঁতরাগাছি কোর্ট ও থানায় তাঁর করুণ অভিজ্ঞতার কথাও বলেন কুণাল ঘোষ৷

আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে ভাগ করার বৃথা চেষ্টা করছেন মোদী, তোপ প্রদেশ নেতাদের

সারদাকাণ্ডে তলব পেয়েও সিবিাই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হননি কলকাতার বর্তমান নগরপাল রাজীব কুমার৷ অভিযোগ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার৷ এই রাজীব ঘোষ-ই সারদা তদন্তে রাজ্য সরকারের গঠন করা সিটের প্রধান ছিলেন৷ কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, ‘‘কেন রাজীব কুমার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন না? তবে এতকিছু করেও তো আটকাতে পারলেন না জেরা৷ যেতে হল শিলং-এ৷’’

কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, বহু তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে৷ কিন্তু তিনি দলনেত্রীর পাশেই রয়েছেন তিনি৷ দল বদলের আপাতত কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁর৷ তবে এদিন কুণাল ঘোষের নিশানায় ছিলেন দলের এমন বহু নেতা যাঁরা টিকিট না পেলে দলনেত্রীর বাড়িতে লোক পাঠিয়ে বিক্ষোভ দেখান৷