স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর:  দুর্গাপুজো শেষ। শেষ কালীপুজোও। মহানগরবাসীর শুরু হয়ে গিয়েছে রোজকার ঘ্যানঘেনে রুটিন। তাই কিছুটা হলেও মনখারাপ আমবাঙালির। আর মনখারাপ হবেই না বা কেন? এখনও যে পুরো একটা বছরের অপেক্ষা। একদিকে পুজো শেষ নিয়ে যখন ভারাক্রান্ত কলকাতাবাসীর মন। তখন অন্যদিকে চন্দননগর, কৃষ্ণনগরের বাসিন্দাদের মনে পুজোর আমেজ। হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকদিন পরেই চন্দননগরবাসী মেতে উঠবে জগদ্ধাত্রী পুজোর আনন্দে। জেলা জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে জোরকদমে প্রস্তুতি। পুজো মণ্ডপগুলিতে চলছে শেষ পর্বের ফিনিশং টাচ।

একদিকে সবাই যখন এই জেলার জগদ্ধাত্রী পুজোর তোড়জোড় নিয়ে ব্যস্ত। তখন এই জেলায় ফেরিঘাট পারাপারের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সুবিধার জন্য এক সুখবর ঘোষণা করল প্রশাসন। জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার গারুলিয়া এবং হুগলি জেলার ভদ্রেশ্বর ফেরিঘাটের নিত্য যাত্রীদের সুবিধার্থে এবার থেকে এই দুই জেলার গঙ্গার দুই পারেই ফেরি পারাপারের জন্য টিকিট কাউন্টার খোলার ব্যবস্থা করছে প্রশাসন। প্রতিদিন গঙ্গার দুই পারের অসংখ্য যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে দুই পারের মোট দশ হাজার নিত্য যাত্রীরা উপকৃত হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

জানা গিয়েছে, এতদিন উত্তর ২৪ পরগনার গারুলিয়া ও হুগলি জেলার ভদ্রেশ্বর ফেরিঘাটের যাত্রীদের জন্য শুধুমাত্র টিকিট কাটার ব্যবস্থা ছিল হুগলীর ভদ্রেশ্বর ফেরি ঘাটে । এছাড়াও এতদিন পর্যন্ত উত্তর ২৪ পরগনার গারুলিয়ায় এপারের যাত্রীদের জন্য কোনও আলাদা টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে ফেরি পার হয়ে যাত্রীদের ওপারে গিয়ে টিকিট কেটে ঘাট চত্বর থেকে বেরোতে হত। যারফলে গঙ্গা পারাপারের ক্ষেত্রে মাত্র একদিকে টিকিট কাউন্টার থাকায় যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হত। ফলে সময়ের অপচয় হত নিত্য যাত্রীদের।

উত্তর ২৪ পরগনার গারুলিয়া ও হুগলি জেলার ভদ্রেশ্বর ফেরিঘাট দিয়ে নিত্যদিন অন্তত দশ হাজার যাত্রী পারাপার করে । এই ঘাটের গুরুত্ব বুঝে রাজ্য পরিবহন দপ্তর এই ঘাটে ভুটভুটি নৌকা তুলে দিয়ে অত্যাধুনিক ভেসেল চালানো শুরু করেছে। নতুন করে এই ফেরিঘাটের দুই পাড়ই সংস্কার করেছে রাজ্য সরকার । গঙ্গার ওপারে জগদ্ধাত্রী পুজোর ঠাকুর দেখতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকে এই ফেরিঘাট পার হয়ে দলে দলে মানুষ ওপারে যায়। সেই কারনেই, এবার যাত্রীদের টিকিট কাটার সুবিধার্থে উত্তর ২৪ পরগনার গারুলিয়ার দিকে নতুন টিকিট কাউন্টার চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন । এরফলে ঘাট পার হওয়ার পর ওপারে গিয়ে নিত্যযাত্রীদের আর টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না।

এই বিষয়ে, গারুলিয়া পুরসভার পুরপ্রধান সঞ্জয় সিং বলেন, ‘যেভাবে রাজ্য সরকার এই গঙ্গার ঘাট সংস্কার করেছে তাতে উপকৃত হয়েছেন দুই পাড়ের অসংখ্য নিত্যযাত্রীরা’। তিনি আরও জানান, গঙ্গার এইপারে যাত্রীদের জন্য খুবশীঘ্রই টিকিট কাউন্টার চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। এরফলে আরও সুবিধা হবে এই ফেরীঘাট ব্যবহারকারী নিত্যযাত্রীদের। দ্রুত টিকিট কেটে ওপারে চলে যেতে পারবে, ওপারে গিয়ে টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এবং কোনও রকম ঝামেলা পোহাতে হবেনা আর তাঁদের। আসন্ন জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষ্যে নিত্য এই ফেরিঘাট ব্যবহারকারী যাত্রীদের জন্য এটাই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় উপহার বলে মনে করছেন কেউ কেউ। সবমিলিয়ে জগদ্ধাত্রী পুজোতেই নতুন উপহার পাচ্ছেন গারুলিয়া ও হুগলি জেলার ভদ্রেশ্বর ফেরিঘাট ব্যবহারকারী যাত্রীরা।