স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : জান কয়লা করে মাসের শেষে বাগনান-১ ব্লকের ভূঁয়েড়ার অনাদি চক্রবর্তী যে টাকা হাতে পান তাতে চার সদস্যের সংসার চালানো দায়। সংসার খরচ শেষে তিনি আক্ষরিক অর্থেই কপর্দকশূন্য। তাও মোটামুটি চালিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু,বাধ সাধে বড় ছেলে অরিজিতের অসামান্য মেধা। সংসারের এতো বাধা, বিপত্তি,অনটনের মাঝেও সে তার প্রতিভার পরিপূর্ণ পরিস্ফুটন চায়। চায় নিজের দু’চোখের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করতে।

চরম দারিদ্রতাকে নিত্যসঙ্গী করেই সে এগিয়ে নিয়ে যায় তার বিজয় তরী। এ বছর মাধ্যমিকে ৬৫৯ নম্বর পেয়ে সে কেবল তার প্রতিভার প্রতি সুবিচারই করেনি,সে বুঝিয়েছে প্রকৃত শিক্ষা তথা মেধার বিকাশে অর্থ অন্তরায় হতে পারে না। ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’ এমনই লড়াকু মেধার লড়াইয়ে সাথী হতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই মেধাবী ছাত্রের খোঁজ তাঁরা আগেই পেয়েছিল। তাঁদের প্রতিনিধিদল অরিজিৎ চক্রবর্তীর বাড়ির দ্বারে পৌঁছে যায়। তার চাহিদামতো বই,খাতা ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী তার কাছে পৌঁছে দেয়। সর্বোপরি অরিজিতের এহেন লড়াইকে কুর্নিশ জানাতে গত বছর তাকে ‘উত্তরণ’-এর মঞ্চে ‘পাঠবৃত্তি’তে সম্মান জানায়। অরিজিৎ তাঁদের নিরাশ করেনি। অর্থাভাব বাধ সাধেনি।

প্রসঙ্গত, এবারেও জেলাতেই জয়জয়কার মাধ্যমিকের ফলাফলে। ৬৯৪ পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে অরিত্র পাল। মেধাতালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ৮৪ জন। মেমারি বিদ্যাসাগর মেমোরিয়ালের ছাত্র অরিত্র। মাধ্যমিকের দ্বিতীয় দুজন জন প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩। পূর্ব বর্ধমানের সায়ন্তন গড়াই, বাঁকুড়ার অভীক দাস, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। ৬৯০ পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে অরিত্র মাইতি,কাঁথির সৌম্য পাঠক, পূর্ব মেদিনীপুরের দেবাশিস মহাপাত্র, উত্তর ২৪ পরগণার অরিত্র মাইতি। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জুনেই প্রাকশিত হবে মাধ্যমিকের ফলাফল। কিন্তু, তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ১৫ জুলাই প্রকাশিত হল মাধ্যমিকের ফলাফল। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে জানা যাচ্ছে্ ফলাফল। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়। এ বছর মোট ১০ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৮৮ জন পরীক্ষা দিয়েছে। গতবারের তুলনায় এ বার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার কমলেও, ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা বেশি ছিল। এ বছর ৪ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৭৯ জন ছাত্র পরীক্ষায় বসে। মেয়েদের সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯ জন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ