নয়াদিল্লি : করোনা ভাইরাসকে অতি মহামারী আখ্যা দিয়ে মহিন্দ্র গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান আনন্দ মহিন্দ্র, এমন সংকট আগে কখনো মুখোমুখি হতে হয়নি বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি তার কর্মীদের বার্তা দিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাকে নতুন করে দেখার জন্য যাতে করোনা পরবর্তী বিশ্বের জন্য প্রস্তুত থাকা যায়।

শিল্পপতি তার গোষ্ঠীতে কর্মরত দুই লক্ষের বেশি কর্মীদের পরামর্শ দিয়ে চিঠি লিখেছেন। যাতে তিনি তাদের এই সময় নতুন চিন্তাভাবনা এবং উদ্ভাবনীকে কাজে লাগাতে বলেছেন। পাশাপাশি এই সংকট থেকেও কেমন ভাবে ভবিষ্যতে সুবিধা নেওয়া যায় সংকট পরবর্তীকালের জন্য সে ব্যাপারে স্বপ্ন দেখতে এবং লক্ষ্য তৈরি করতে বলেছেন।

কাজের দিক থেকে এটা স্বাভাবিক সময় নয় বলে উল্লেখ করে এ শিল্পপতি জানিয়েছেন, এতটা সংকটের মুখোমুখি আগে হতে হয়নি। সকলেই উদ্বিগ্ন, তাদের পরিবার, ব্যবসা, অর্থনীতি ও দেশের জন্য। তা সত্ত্বেও যতটা সম্ভব কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষা নেওয়া হচ্ছে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাঁচার। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সকলকে একটা ব্রেক দিয়েছে যেটাকে ভালো মতো কাজে লাগাতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি, নতুন করে জুতো পড়ে নতুন আবিষ্কার করে ফের জ্বলে উঠতে বলেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, এভাবে গৃহবন্দি হয়ে থাকায় উপলব্ধি করতে পেরেছেন বেশি বোঝা চাপিয়ে প্রকৃতিকে কতটা অগ্রাহ্য করা হয়। তিনি উপলব্ধি করেছেন, আগে মুম্বই শহরের এত সুন্দর রূপ দেখা হয়নি। লকডাউনের জেরে নীল আকাশ, দূষণমুক্ত বায়ু এবং জঞ্জাল বিহীন রাস্তা দেখা যাচ্ছে।

আনন্দ মহিন্দ্র প্রশ্ন তুলেছেন, এটা শেখাতেই কি এমন স্বাস্থ্য সংকটের দরকার ছিল? সংকট কেটে গেলেও এমন ভাবে তা কি রক্ষা করা যায় না? পরিবহন ব্যবস্থাটা আরও দক্ষ ভাবে ব্যবহার করা যায় না কি ? কম ঘোরাঘুরি করে কম কার্বন নির্গত করা যায় না কি? তবে কি দূর থেকে বসে বৈঠক করে এবং যোগাযোগ করে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করা যায় নাকি যাতে কাজের ক্ষেত্রে একটা ব্যালেন্স বজায় রাখা যায়। তাই ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নতুন করে জুতোয় পা গলানোর কথা বলেছেন তিনি।

পাশাপাশি তিনি সামাজিক দিক থেকে নতুন ধারা চালু করার কথা বলেছেন। এই অবস্থায় অবস্থায় উদাহরণ দিয়ে নতুন পদ্ধতি আবিষ্কারের কথা উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি কর্মীদের সামনে প্রশ্ন রেখেছেন, ব্যবসার প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু আবিষ্কার করা যায় কিনা যাতে সিদ্ধান্ত নিতে এবং পণ্য অথবা পরিষেবা দিতে সময় বাঁচবে? নতুন এমন কোনও ছকে যুক্তিসংগত কাজের পদ্ধতির নকশা তৈরি করার কথা বলেছেন যাতে খরচ কমানো যায়।

এটাই আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখার দিন বলেই মনে করছেন এই শিল্পপতি। পাশাপাশি এই সময় ভবিষ্যতের ব্যবসা নিয়ে চিন্তা করতে বলেছেন‌ যাতে করোনা পরবর্তী সময় কাজ করা যায়।

অন্যদিকে তিনি কর্মীদের এই সময় একেবারে সমাজের পিছিয়ে পড়া সেই সব মানুষদের কথা চিন্তা করতে বলেছেন। কারণ ওইসব মানুষদের‌ আরামে আইসোলেশনে

থাকার উপায় নেই। এইসব দিনমজুরদের নিয়মিত আয় বন্ধ হওয়ার চরম সংকটে পড়েছে। ওইসব মানুষের সাহায্যের জন্য তহবিল গড়ে তাতে টাকা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাড়ির কাজের লোক যারা এখন আসতে পারছে না তাদের বেতন দিয়ে দেওয়াটা একান্ত কর্তব্য বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি যেভাবে এই গোষ্ঠীর কর্মীরা এই মহামারীর সময় যে ভাবে নানাভাবে সাড়া দিয়েছেন তা দেখে তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।