হাসপাতালের বিলে কারচুপি করে রোগী ঠকানোর প্রবণতা রয়েছে বিভিন্ন  হাসপাতালের৷ শুধু কলকাতার বলে নয়, এই সমস্যা এ দেশের কেন গোটা পৃথিবী জুড়েই রয়েছে। ফলে বিল মেটানোর সময় রোগী এবং তাদের পরিবারের লোকেদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকা  একান্ত জরুরী৷কেননা হাসপাতাল যে ভাবে টাকা দাবি করে তাতে রোগীর স্বাস্থ্য বিমা থাকলেও সব টাকা বিমার আওতায় পাওয়া যাবে না৷ তাই চিকিৎসা পরিষেবা নিতে গিয়ে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে হলে নিচের বিষয়গুলিতে নজর রাখুন৷

আরও পড়ুন : বেসরকারি হাসপাতালের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

প্রথমত, হাসপাতাল থেকে রোগী ছাড়ার সময়ে সব কাগজ পত্র বুঝে নেওয়া দরকার। দেখে নেবেন কী কী খরচের জন্য বিল করা হয়েছে এবং সব সময়ে ‘আইটেমাইজড বিল’ চাইবেন৷

দ্বিতীয়ত, কোনও রকম কারচুপির সন্দেহ হলেই হাসপাতালের কাছে অবশ্যই ব্যাখ্যা চাইবেন এবং  দরকারে লিখিত কারণ চাইবেন।

তৃতীয়ত,  চিকিৎসার প্রয়োজনে কখন কোন ঘরে রোগীকে রাখা হচ্ছে তা আগেই জেনে নিন।জানতে চাইবেন আদৌ দামি কেবিনে রাখার প্রয়োজন আছে কি না। দরকার হলে এজন্য  লিখিত ভাবে ব্যাখ্যা চাইবেন।
চতুর্থত, যে সব পরীক্ষা করতে বলা হচ্ছে তা যেন প্রেসক্রিপশনে লেখা থাকে এবং নজন রাখতে হবে কোথাও একই পরীক্ষার খরচ বিলে একাধিক বার দেখানো হয়েছে কি না৷

আরও পড়ুন পঞ্চায়েত নির্বাচনের লক্ষ্যেই বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে আক্রমণ মমতার!

চতুর্থত, রোগীকে ঠিক কোন কোন ওষুধ দেওয়া হয়েছে এবং দাম ঠিক মতো বিলে ধরা হয়েছে নাকি  বাজারের দামের দামের চেয়ে বেশি ধরা হচ্ছে তা মিলিয়ে দেখুন।

পঞ্চমত, কোনও পরীক্ষা হাসপাতালের বাইরে করানো হলে এবং তা না জানিয়ে করলে প্রশ্ন তুলুন কারণ তা আগে থেকে জানানো উচিত।

ষষ্ঠত, একই রকম ভাবে সব সময় নিজেরা  নোট রাখবেন রোগী ভর্তি পর কতবার বাইরে থেকে  চিকিৎসক দেখতে এসেছেন। এক্ষেত্রে ভুয়ো বিল করার একটা প্রবণতা থাকে৷

আরও পড়ুন: সরকারের উপর ভরসা হারিয়ে নিজেরাই নিরাপত্তা সাজাচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালগুলি

সপ্তমত, রাত বারোটার পর হাসপাতালে ভর্তি হলে সতর্ক থাকা দরকার  আগের দিনকেও বিলের ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না? তাছাড়া  রোগীর খাবার, স্যানিটাইজার, বিছানার চাদর, টুথ পেস্ট, ব্রাশ ইত্যাদি বেড ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সেগুলি আলাদা করে ফের চার্জ করা হচ্ছে কি না

অষ্টমত,  ওটি ভাড়া কত আগেই জেনে নিন এবং দেখে নেবেন যতক্ষণ অপারেশন হয়েছে তারজন্যই বিলে চার্জ করা হয়েছে নাকি বেশি নেওয়া হয়েছে৷ কারণ হাসপাতালের বিলে কারচুপির এটিও একটা অন্যতম স্থান৷

নবম, শেষ তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা মাথায় রাখা উচিত সেটা হল – একেবারে রোগী ছাড়া পাওয়ার সময় শুধু নয় প্রতিদিনই বিলের অবস্থা জানতে চাওয়া উচিত ৷ কারণ  রোগী ছাড়া পাওয়ার দিন অথবা রোগীর মৃত্যু হলে তাকে নিয়ে যাওয়া নিয়ে একটা অন্য টেনশন থাকে ফলে তাড়াহুডোয় ওই বিল তেমন ভাবে ‘স্ক্রটিনি’ করা সম্ভব হয় না৷সেজন্য প্রতিদিন  বিলের অবস্থা জেনে নিয়ে তাতে কোনও কারচুপি নজরে এলেই অবিলম্বে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার জবাব চাইবেন৷

আরও পড়ুন : চিকিৎসার জন্য ভেলোরে যাবেন কীভাবে, থাকবেন কোথায়?

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।