কলকাতা: শনিবার মধ্যরাত থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ এবং বাংলাদেশের খেকুপাড়ার মধ্যদিয়ে প্রবল গতিবেগে স্থলভাগের উপর আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। প্রতিঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে বইতে পারে ঝোরো হাওয়া। এবং ঝড়ের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩৫ কিমি। ইতিমধ্যেই আয়লার সৃতি উসকে দিয়ে দক্ষিনবঙ্গের জেলাগুলির পাশাপাশি সারা রাজ্যে জুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি সঙ্গে দোসর হিসাবে আছে ঝোরো হাওয়া।

উত্তাল সমুদ্রের গতিবিধি নজর রাখতে প্রশাসনের তরফে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে উপকূলরক্ষী বাহিনীকে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সদা সতর্ক নবান্ন। রাজ্যপ্রশাসনের তরফে খোলা হয়েছে একাধিক কন্ট্রোল রুম। ছুটি বাতিল করা হয়েছে সমস্ত সরকারি কর্মীদের। এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলাপ্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে কোনও রকম গুজবে কান দিতে বারণ করা হয়েছে। সব সময় নিজেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় শুক্রবারই প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলার মানুষদের সদা সতর্ক এবং নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। কোনও রকম গুজবে কান না দিয়ে সবসময় সরকারি খবরের উপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টিভি এবং রেডিওর সংবাদ বুলেটিন শুনতে বলা হচ্ছে। দরকার পড়লে সথিক তথ্য জানার জন্য সাধারন মানুষের কাছে সবসময় একটি রেডিও রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মৎস্যজীবিদের কাছে রেডিও রাখার পরামর্শ দিয়েছে রাজ্য-প্রশাসন।

ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়লে অযথা আতঙ্কিত হবেননা আগে থেকে নিরাপদে আশ্রয় নিন। নিজের বাড়িকে সুরক্ষিত মনে না হলে কোনও ত্রানশিবিরে আশ্রয় গ্রহন করুন। কাছে পর্যাপ্ত শুকনো খবার মজুত রাখুন। এইসময় পানীয় জল ফুটিয়ে পান করা উচিত। নিজেকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি গৃহপালিত পশুর উপর নজর রাখুন, তার বাঁধন খুলে দিন।

মোবাইল, অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীতে ভালো করে চার্জ দিয়ে রাখুন। ঝড় উঠলে ঘরের সমস্ত বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ রাখুন। পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডারের মুখ ভালো করে বন্ধ রাখুন। শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করুন। ঝড়ের পরে কোনও রকম ছেঁড়া তার, বৈদ্যুতিক স্তম্ভে হাত দেবেন না। নিজে সুস্থ থাকুন নিরাপদে থাকুন। অপরকেও সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখুন।