ওয়াশিংটন: চলতি আর্থিক বছরে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নিয়ে তাদের অনুমান অনেকটা কমিয়ে দিল বিশ্বব্যাংক৷ তাছাড়া এই বিষয়ে সতর্ক করেছে, ‘সর্বব্যাপী’ এই আর্থিক স্লথতা দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রের সঙ্কট আরও বাড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংক রবিবার এক রিপোর্টে জানিয়েছে, চলচি বছরের প্রথম দুই ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ এবং এপ্রিল-জুন) বৃদ্ধির হার ক্রমশ কমায় চলতি অর্থবছরে ভারতীয় অর্থনীতি ৬ শতাংশের থাকবে না। তবে, ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানিয়েছে, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং গ্রামীণ এলাকায় মানুষের আয় বাড়াতে সরকার যে সব পদক্ষেপ করেছে সেগুলি ফল পেতে শুরু করলে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে আর্থিক বৃদ্ধির হার বেড়ে হবে ৬.৯ শতাংশ

বিশ্বব্যাংকের অনুমান, আগামী অর্থবর্ষ থেকে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করবে এবং সেক্ষেত্রে ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ওই বৃদ্ধির হার ৭.২ শতাংশে পৌঁছবে। বিশ্ব ব্যাংকের অনুমান অনুসারে ২০১৯ সালে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ এবং নেপালের বৃদ্ধির হার বেশি৷ পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক মনে করছে, তখন বৃদ্ধির হারের নিরিখে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে কেবল বাংলাদেশ (৮.১%) এবং নেপাল (৭.১%) ভারতের (৬%) থেকে এগিয়ে থাকবে।

এপ্রিল মাসে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছিল, চলতি অর্থবছরে ৭.৫% বৃদ্ধি পাবে ভারতের অর্থনীতি। কিন্তু, পরে দেখা গেল উৎপাদনের পাশাপাশি চাহিদাও কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক স্লথতা ‘সর্বব্যাপী’ হতে শুরু করেছে বলে বিশ্ব ব্যাংক আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ পরপর দু’বছর বৃদ্ধির হার নিম্নমুখী থাকার ফলে গড় মূল্যবৃদ্ধিও (৩.৪%) রিজার্ভ ব্যাংকের স্বস্তি সীমার মধ্যে রয়েছে। ফলে, চলতি অর্থবর্ষের অবশিষ্ট মাসগুলিতে রিজার্ভ ব্যাংক সুদের হার কমাতে অথবা অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে বিশ্ব ব্যাংক মনে করছে।

ওই রিপোর্টে বাংলাদেশের বৃদ্ধির হার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৭.৯ শতাংশ থেকে চলতি অর্থবছরে সামান্য বেড়ে ৮.১ শতাংশ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে অনেকখানি কমে ৭.২ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাঙ্ক।

পাশাপাশি আবার পাকিস্তানের অর্থনীতির বৃদ্ধির হার চলতি অর্থবছরে ২.৪ শতাংশে নেমে আসবে বলে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার বৃদ্ধির হার কমে হবে ২.৭ শতাংশ, নেপালের ৬.৫ শতাংশ, ভুটানের ৭.৪ শতাংশ, মালদ্বীপের ৫.২ শতাংশ এবং আফগানিস্তানের ৩ শতাংশ।