নয়াদিল্লি : ব্যাসিলাস ক্যালমেটে গুয়েরিন বা বিসিজি ভ্যাকসিন কমাতে পারে করোনা সংক্রমণের হার। কমতে পারে মৃত্যু ভয়ও। সমীক্ষা বলছে বিসিজি ভ্যাকসিনের প্রভাব বেশ কার্যকরী করোনা ভাইরাসের ওপর। এই ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রথম ৩০দিন করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে রীতিমতো সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে বিসিজি বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা।

নন প্রফিট অ্যামেরিকান অ্যাসোসিয়েশান ফর দ্যা অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স জানাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি বিসিজি ভ্যাকসিন বাধ্যতামূলক করত, তবে করোনা মহামারীর আকার নিত না আমেরিকায়। বিসিজি ভ্যাকসিনেশন পলিসি করোনার মোকাবিলা করতে সহায়তা করে। শিশুর জন্মের সময়েই এই বিসিজি দেওয়া হয়। যক্ষ্মা প্রতিরোধ করতে বিসিজি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়ে থাকে।

গবেষকরা জানাচ্ছেন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে বিসিজি। সেভাবেই করোনা থেকেও রক্ষা করছে এই ভ্যাকসিন। ১৩৪ দেশের করোনা আক্রান্তদের ওপর গবেষণা চালিয়ে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। কোনও দেশের প্রথম ৩০ দিনের করোনা সংক্রমণের শুরুতে বিসিজি ভ্যাকসিন দিলে, প্রকোপ অনেক কম হবে।

তবে এটি কোনও ম্যাজিক বুলেট নয় বলেই জানাচ্ছেন গবেষকরা। এখনও এর প্রেক্ষিতে অনেক গবেষণা বাকি বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। করোনায় মৃত্যুভয় বেশি ষাটোর্দ্ধদের। ফলে তাদের সুরক্ষা দিতে নয়া সমীক্ষা চালু করল আইসিএমআর। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ জানাচ্ছে করোনার ওপর বিসিজি ভ্যাকসিন কীভাবে কাজ করবে, তা জানতেই এই সমীক্ষা।

ষাটোর্দ্ধদের ওপর বিসিজি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করলে তা করোনার ওপর কার্যকরী হবে কিনা, সেটাই পরীক্ষা করতে চাইছে আইসিএমআর। আইসিএমআর মনে করছে ৬০ থেকে ৯৫ বছরের মানুষদের কিছুটা হলেও সুরক্ষা দিতে পারবে বিসিজি ভ্যাকসিন। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক স্তরেই চিকিৎসা পদ্ধতিতে এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করা যেতে পারে কীনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। সারা দেশ জুড়ে মূলত কোভিড ১৯ হটস্পটে সমীক্ষা চালাবে আইসিএমআরের টিম। মহারাষ্ট্র, তামিল নাড়ু, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও দিল্লিতে আইসিএমআর সমীক্ষা চালাবে বলে জানা গিয়েছে।

এছাড়া আমেরিকার বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স’-এর তরফে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যক্ষার প্রতিষেধক প্রয়োগ করে করোনায় মৃত্যুর হার অনেকটাই কমানো যাচ্ছে। মার্কিন বিজ্ঞানীদের ওই গবেষণা দলের প্রধান জানিয়েছেন, সংকটজনক করোনা রোগীদের যক্ষার প্রতিষেধক প্রয়োগ করে মৃত্যুর হার প্রায় ১০.৪ শতাংশ পর্যন্ত কমানো গিয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।