মুম্বই: লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে ভারত ও চিন সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষের পর চিনা পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়েছে দেশজুড়ে৷ তবে আইপিএলের টাইটেল স্পনসর চিনা মোবাইল সংস্থা ভিভো’র সঙ্গে এখনই সম্পর্ক ছেদ করতে চাই না বিসিসিআই৷ বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছেন বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ অরুণ ধুমাল৷

শুধু তাই নয়, এই চিনা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত অর্থ ভারতীয় অর্থনীতির সহায়ক বলেও মনে করেন বিসিসিআই কোষাধ্যক্ষ৷ আইপিএলের টাইটেল স্পনসর বাবদ প্রতি বছর ৪৪০ কোটি টাকা পায় বিসিসিআই৷ ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সঙ্গে চিনা এই মোবাইল সংস্থা ভিভো’র পাঁচ বছরের চুক্তি শেষ হওয়ার কথা ২০২২ সালে৷

ধুমাল পিটিআই-কে জানান, ‘আপনি যখন আবেগের সঙ্গে কথা বলবেন, তখন আপনি যুক্তি ত্যাগ করবেন। চিনা কোম্পানির পক্ষে চিনের উদ্দেশ্যে সমর্থন করা বা ভারতের পক্ষে সমর্থন দেওয়ার জন্য চিনা কোম্পানির সহায়তা নেওয়া মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে৷’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমরা চিনা সংস্থাগুলিকে তাদের পণ্য ভারতে বিক্রি করতে দিচ্ছি৷ তারা ভারতীয় ক্রেতাদের কাছ থেকে যে পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করছে, তার কিছু অংশ বিসিসিআই-কে (ব্র্যান্ড প্রচার হিসাবে) দিচ্ছে৷ বোর্ড সেই অর্থের উপর ৪২ শতাংশ ভারত সরকারকে কর দিচ্ছে৷ সুতরাং, এটি ভারতের পক্ষে সমর্থন করছে, চিনের নয়৷’

ভিভো’র মতো মোবাইল ফোন সংস্থা ওপ্পো গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট দলকে স্পনসর করেছিল৷ তারপর বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক শিক্ষাগত প্রযুক্তি বাইজুস স্টার্ট-আপ চিনা কোম্পানিকে সরিয়ে বিরাট কোহলিদের মেন স্পনসরের দায়িত্ব পায়৷

ধুমালের মতে, তিনি চিনা পণ্যের উপর নির্ভরতা হ্রাস করার পক্ষে৷ তবে যতক্ষণ এই সংস্থাগুলিকে ভারতে ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হবে, ততক্ষণ আইপিএলের মতো কোনও ভারতীয় ব্র্যান্ডকে স্পনসর করার কোনও ক্ষতি নেই।

তিনি বলেন, ‘তারা যদি আইপিএল-কে সমর্থন না-করে তবে তারা সেই অর্থ চিনে ফিরিয়ে নেবে বলে মনে হয়। কিন্তু যদি সেই টাকা এখানে ধরে রাখা হয়, তবে আমাদের খুশি হওয়া উচিত। কারণ আমরা সেই অর্থ দিয়ে সরকারকে সমর্থন করছি (কর দিয়ে)।’

ধুমাল আরও বলেন, আমি যদি কোনও চিনা সংস্থাকে ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরির জন্য চুক্তি দিই, তবে আমি চিনের অর্থনীতিকে সহায়তা করব। কিন্তু জিসিএ (গুজরাত ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন) মোতেরায় বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরি করেছে ভারতীয় সংস্থা (এলএন্ডটি)৷’ পাশাপাশি তিনি এও জানান, ক্রিকেটের অত্যাধুনিক পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে বিসিসিআই যে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে তার একটিও চিনা সংস্থাকে বরাদ হয়নি৷’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ