নয়াদিল্লি: ফলাফল যাই হোক, রবিবাসরীয় রাজধানীর আবহাওয়াই যে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ ছিল দু’দলের ক্রিকেটারদের সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সমস্ত ভ্রুকুটি সরিয়ে নয়াদিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারত-বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম টি-২০ ম্যাচ সম্পন্ন হল নির্বিঘ্নেই। আর কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও এমন একটি ম্যাচ খেলার জন্য দু’দলের ক্রিকেটারদের ধন্যবাদ জানালেন বোর্ডের নয়া প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

দিওয়ালি পরবর্তী সময়ে রাজধানীর হাওয়ায় দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে লাগামছাড়া। ৫ নভেম্বর অবধি বন্ধ সমস্ত স্কুল-কলেজ। নয়াদিল্লির আবহাওয়ায় দূষণ সূচক এতটাই বেশি যে স্বাস্থ্যবিধিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে দিনকয়েক আগেই। এমন সময় ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে সুর চড়াচ্ছিলেন ক্রিকেট অনুরাগীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় উগড়ে দিচ্ছিলেন ক্ষোভ। পরিবেশবিদরা ম্যাচ অন্যত্র স্থানান্তরিত করার আবেদন জানালেও শেষমূহুর্তে আনুষঙ্গিক নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি।

তবে সব বাধাবিঘ্ন উপেক্ষা করে রবিবাসরীয় সন্ধেয় নির্বিঘ্নেই অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে সম্পন্ন হল ম্যাচ। আর বহু বিতর্কের পর বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশের মাটিতে তাঁর প্রথম ম্যাচ নির্বিঘ্নে শেষ হওয়ায় কিছুটা আশ্বস্ত নয়া বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। স্বাভাবিকভাবেই রবিবার ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বোর্ড প্রেসিডেন্ট ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি দু’দলের ক্রিকেটারদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌরভ এদিন লেখেন, ‘কঠিন পরিস্থিতিতেও ম্যাচটা খেলার জন্য ভারত-বাংলাদেশ দু’দলের ক্রিকেটারদেরই ধন্যবাদ। বাংলাদেশ দারুণ খেলেছো।’

উল্লেখ্য, রবিবাসরীয় অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সংক্ষিপ্ততম ফর্ম্যাটে প্রথমবার প্রতিবেশী দেশকে হারানোর স্বাদ পায় শাকিবহীন বাংলাদেশ। সৌজন্যে মুশফিকুর রহিমের দুরন্ত হাফ-সেঞ্চুরি।  টস জিতে এদিন ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান তোলে ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৩ ওভারে ৩ উইকেটের বিনিময়ে ১৫৪ রান তুলে ইতিহাস গড়ে টাইগাররা। ৮টি চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ৪৩ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন রহিম। স্বাভাবিক কারণেই ম্যাচের সেরা তিনি।

এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগার্সরা। আগামী ৭ নভেম্বর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দু’দল।