মুম্বই: প্রাথমিকভাবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল। করোনা উদ্বেগের মাঝে আইপিএলের ভবিষ্যৎ ঠিক করতে মঙ্গলবার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে কনফারেন্স কলে যে বৈঠকের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, এদিন সেটাও স্থগিত করল বিসিসিআই। ফলে চলতি মরশুমে আইপিএল আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। সুতরাং, ২০২০ আইপিএল পরবর্তীতে না হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

গোটা পৃথিবীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এদেশেও বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। মারণ ভাইরাসে ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে ভারতে। মৃতের সংখ্যা ছুঁয়েছে ডাবল ফিগার। এমন সময় আইপিএলের ভবিষ্যৎ ঠিক করাটাকে বাতুলতা বলেই মনে করছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিংস ইলেভেন পঞ্জাব মালিক নেস ওয়াদিয়া জানিয়েছেন, ‘মানুষের কথা সবার আগে ভাবতে হবে। বাকি সবকিছু পরে আসবে। পরিস্থিতি কিছুই বদলায়নি, এমন সময় আইপিএল নিয়ে আলোচনা করাটা বোকামি। না হলে না হবে।’

তিনি আরও জানান, ‘সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সরকারের কাজে হামেশাই সমালোচনা করে থাকি কিন্তু এমন কঠিন সময় তারা যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলোকে আমাদের কুর্নিশ জানাতে হবে। এটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো একটা পরিস্থিতি। আমাদের বহু মানুষের কথা ভেবে লড়াই করতে হবে।’

আরেক ফ্র্যাঞ্চাইজি জানিয়েছে, ‘গোটা দেশ লকডাউন। এটা আইপিএল নিয়ে আলোচনার সময় নয়। আইপিএলের চেয়ে আমাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভাবার অবকাশ এইমুহূর্তে রয়েছে।’

বিসিসিআই’য়ের এক আধিকারিকের কথায়, ‘অলিম্পিক যদি একবছরের জন্য স্থগিত হতে পারে তবে সে তুলনায় আইপিএল অনেক ছোট। এটা ঠিক যে আইপিএল আয়োজন করা দিন-দিন জটিল থেকে জটিলতর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই সময় দাঁড়িয়ে সরকার বিদেশি ক্রিকেটারদের ভিসা দেওয়ার কথা ভাবতেও পারে না।’

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নোভেল করোনা ভাইরাসকে বিশ্ব মহামারী ঘোষণা করার পর থেকেই ১৫ এপ্রিল অবধি ভিসা প্রদান বাতিল করে। ২৯ মার্চ ত্রয়োদশ আইপিএল শুরুর কথা থাকলেও সবদিক বিচার বিবেচনা করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও চলতি মাসের মাঝামাঝি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ ১৫ এপ্রিল অবধি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। শুধু ক্রিকেট নয়, করোনার থাবায় বিশ্বজুড়ে স্তব্ধ ময়দান। বন্ধ সমস্ত স্পোর্টস ইভেন্ট।