মুম্বই: রবিবার আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা এই বছরের টুর্নামেন্টের জন্য চিনা স্পনসরদের সঙ্গ চালিয়ে যাবে৷ তবে এর জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) তীব্র সমালোচনা করেছে রাজনৈতিক নেতারা৷

বিসিসিআই আগে জানিয়েছিল যে, তারা সীমান্ত উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে চিনা স্পনসরের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে৷ ১৫ জুন পূর্ব লাদাখে চিনা সৈন্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা শহিদ হন৷ এর পরই সারা দেশে চিনা দ্রব্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয়৷ ভারত সরকারের তরফেও চিনা বিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া হয়৷ প্রায় শতাধিক চিনা অ্যাপ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় সরকারের তরফে৷

এই প্রসঙ্গে আইপিএলে টাইটেল স্পনসর ভিভো মোবাইলের বিরুদ্ধে সরব হয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরে৷ কিন্তু সে সময় বিসিসিআই-এর তরফে জানানো হয়েছিল এ নিয়ে বোর্ড পরে সিদ্ধান্ত নেবে৷ কিন্তু রবিবার আইপিএল গভর্নিং কমিটির বৈঠকে চলতি বছরে আইপিএলে সেই চিনা টাইটেল স্পনসর রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷

বিসিসিআই-এর এই সিদ্ধান্তের পরেই ন্যাশানাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লা হলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি বোর্ডের এই পদক্ষেপ সম্পর্কে তাঁর অসন্তু প্রকাশ করেন৷ টুইটারে তিনি লেখেন, ‘চিনা মোবাইল ফোন নির্মাতা আইপিএলের টাইটেল স্পনসর হিসাবে চালিয়ে যাবে কিন্তু লোকেদের চাইনিজ পণ্য বর্জন করার কথা বলা হয়েছে। কীভাবে চিনা অর্থ / বিনিয়োগ / স্পনসরশিপ / বিজ্ঞাপন পরিচালনা করতে হয় তা নিয়ে আমরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি৷ তখনই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে চিন আমাদের দিকে নাক গলাচ্ছে।’

আরও একটি টুইটে প্রাক্তন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী বিসিসিআই-এর চিনা মোবাইল সংস্থা ভিভো’র স্পনসরশিপকে টাইটেল স্পনসর হিসেবে ধরে রাখার বিদ্রোহজনকভাবে উল্লেখ করেছেন, যার আইপিএল নিয়ে ২ হাজার কোটি টাকার পাঁচ বছরের চুক্তি রয়েছে।

দ্য প্রিন্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (সিএআইটি) আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে চিঠি দিয়েছে৷ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠিত হতে চলা আইপিএলের অনুমতি আটকে রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

সিএআইটির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক প্রবীন খান্দেলওয়াল চিঠিতে লিখেছেন, ‘বিসিসিআই-এর সিদ্ধান্ত জনগণের সুরক্ষাকে একেবারেই উপেক্ষা করার জন্য অর্থের লোভ দেখায় এবং তাতে চিনা সংস্থাও জড়িত৷’ চিঠিতে শাহ ও জয়শঙ্করকে অনুরোধ করে লেখা হয়েছে, ‘বিষয়টি তাত্ক্ষণিকভাবে বিবেচনা করা এবং ভারতে বা দুবাই বা অন্য কোথাও আইপিএল অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য বিসিসিআই-কে কোনও অনুমতি না দেওয়ার জন্য৷’

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও