কলকাতা: নাগরিক পঞ্জিকরণ নিয়ে উত্তাল দেশ। এসবের মধ্যে একটা প্রশ্ন গত কয়েকদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে, বিপ্লব দেবকে তাঁর নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে। তিনি যেহেতু বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং বর্তমানেও ওপার বাংলায় তাঁর বেশ কয়েকজন আত্মীয় রয়েছেন, তাই বিজেপির এই তরুণ মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ হইচই শুরু হয়েছে। এমনিতেই তাঁকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই, তার মধ্যে জুড়ে বসেছে এই নাগরিকত্বের প্রশ্ন। তবে বিতর্ক ফের বাড়ল৷

তাঁর উইকিপিডিয়া পেজে বারবার এডিট করা হয়েছে তাঁর জন্মস্থান। আগে লেখা ছিল, ১৯৭১-এ বাংলাদেশে তাঁর জন্ম। কিন্তু এখন তাঁর উইকিপিডিয়া পেজ খুললে দেখা যাচ্ছে, জন্ম ত্রিপুরাতেই।

গত ৩০ জুলাই অসমের নাগরিক পঞ্জিকরনের তালিকা প্রকাশিত হয়। সেখানে বাদ পড়ে প্রায় ৪০ লক্ষের নাম। এরপরই দেশ জুড়ে শুরু হয় বিতর্ক। এরপর থেকেই বিতর্ক শুরু হয় বিপ্লব দেবকে ঘিরে।

ঘটনার ঠিক দু’দিন পর থেকেই বিপ্লব দেবের উইকিপিডিয়া পেজে আলোড়ন শুরু হয়ে যায়। ২ অগস্ট অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার থেকে ৪ অগস্ট শনিবার, ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩৭ বার এডিট করা হয় তাঁর পেজটি। এডিট হিস্টরি খুললেই দেখা যাবে, কখনও তাঁর জন্মস্থান বাংলাদেশ আবার কখনও ত্রিপুরা। এই নিয়েই চলেছে টানাটানি।

লেখা ছিল, ত্রিপুরার গোমতী জেলায় তাঁর জন্ম। ২ তারিখে এডিট হিস্টরি বলছে লেখা হয়েছিল বংলাদেশের চাঁদপুরের কাছুয়া উপজেলায় জন্ম। কখনও দেখা যাচ্ছে লেখা রয়েছে, ১৯৭১-এর নভেম্বরে বাংলাদেশে জন্ম বিপ্লবের। এরপর তাঁর বাবা-মা ভারতে আসেন। পরেই আবার এডিট করে লেখা হয়েছে, তাঁর বাবা-মা ভারতে আসার পর তাঁর জন্ম হয় ত্রিপুরায়। কোনও একটি এডিট হিস্টরিতে দেখা যাচ্ছে, তাঁর ‘জন্মের আগে’ তাঁর বাবা-মা এসেছিলেন, সেটা উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। আবার, কোথাও লেখা রয়েছে, তাঁর বাবা-মা ‘অবৈধভাবে ভারতে আসার পর’, যেটা এডিট করে ‘অবৈধ’ বা illegal শব্দটা তুলে দেওয়া হয়েছে।

এই এডিটের বিষয়টা বিপ্লব দেবের চোখ এড়ায়নি। তাঁর মিডিয়া অ্যাডভাইসর সঞ্জয় মিশ্র জানান, তাঁরা বিষয়টা দেখেছেন। তিনি আরও বলেন, বিপ্লব দেবের বাবা হারাধন দেব ১৯৬৭-র ২৭ জুন ত্রিপুরার উদয়পুরের বাসিন্দা হিসেবে নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ত্রিপুরার তথাকথিত উদয়পুরেই জন্ম মুখ্যমন্ত্রীর, যা গোমতী জেলা নামে পরিচিত।