লাহোর: প্রয়াত পাক লেগ-স্পিনার আব্দুল কাদিরকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকর ও ইমরান খান৷ শুক্রবার রাতে লাহোর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান লেগ-স্পিনের এই জাদুকর৷ কাদিরের মৃত্যুকে শোকাহত ক্রিকেটমহল৷

কাদিরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই শোকবার্তায় পাক প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বকাপ জয়ী পাক অধিনায়ক লেখেন, ‘আমি আমার এক ভালো বন্ধুকে হারালামষ যে দীর্ঘদিন পাকিস্তান ক্রিকেটের সেবা করে গিয়েছে৷ কাদিরের মৃত্যুতে আমি মর্মাহত৷’ ব্যাটিং মায়েস্ত্রো সচিন কাদিরের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লিখেছেন, ‘Remember playing against Abdul Qadir, one of the best spinners of his times. My heartfelt condolences to his family. RIP.’

কাদিরের কেরিয়ারের সায়াহ্নে সচিনের উত্থান ছিল রূপকথার গল্পের মতো৷ সচিনের প্রতিভার প্রশংসায় যখন মুখরিত ক্রিকেট বিশ্বের তাবড়রা৷ ঠিক তখন পেশোয়ারে এক ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ১৬ বছরের এই মারাঠি কিশোরকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন কিংবদন্তি পাক লেগ-স্পিনার৷ কাদির সচিনকে বলেছিলেন, এটা আন্তর্জাতিক ওয়ান ডে নয়৷ সুতরাং তুমি আমার বিরুদ্ধে ছক্কা মারার টাই করতে পারো৷ পরের ওভারে আমাকে ছক্কা মারতে পারলে তুমি স্টার হয়ে উঠবে৷’ সচিন মুখে কাদিরকে কোনও উত্তর দেননি৷ কিন্তু পরের ওভারে কাদিরের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন সচিন৷ পরে ওই ওভারে আরও দু’টি এবং মোট তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ছিলেন সাড়ে পাঁচ ফুটের এই মারাঠি কিশোর৷ শুধু তাই নয়, ওই ম্যাচে মুস্তাক আহমেদকে এক ওভারে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতকে ওই ফ্রেন্ডলি ম্যাচ জিতিয়েছিলেন সচিন৷

১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৯৷ পেশোয়ারে এটাই হতে পারত সচিনের ওয়ান ডে অভিষেক৷ কিন্তু আগের রাতে বৃষ্টিতে ম্যাচ শুরু করা যায়নি৷ সকালেই ম্যাচ বাতিল করে দেন আম্পায়াররা৷ কিন্তু যদিও দর্শকদের কথা ভেবে ম্যানেজমেন্ট ২০ ওভারের একটি ফেন্ড্রলি ম্যাচের আয়োজন করে৷ সেই ম্যাচেই সচিনের প্রতিভার পরখ করতে গিয়ে নিজের কেরিয়ারকে শেষের পথে চালিত করেছিলেন কাদির৷ কারণ কিংবদন্তি এই পাক লেগ-স্পিনার পরে স্বীকার করেছিলেন কেরিয়ারে কোনও ব্যাটসম্যান তাঁকে এক ওভারে তিনটি ছক্কা মারতে পারেনি৷

সচিনের ক্রিকেট কেরিয়ারে এই ঘটনা তাঁর ফ্যানেদের কাছে রূপকথার গল্পের মতো৷ সে সময় কেরিয়ারে উচ্চ শিখরে ছিলেন কাদির৷ তিনি ছিলেন ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা লেগ-স্পিনার৷ ১০ রকমভাবে বল করতে পারতেন কিংবদন্তি এই লেগ-স্পিনার৷ সেই কাদিরের বিরুদ্ধে দলকে অবিশ্বাস জয় এনে দিয়েছিলেন সচিন৷ ওই ম্যাচে জয়ের জন্য দরকার ছিল পাঁচ ওভারে ৭০ রান৷ কাদিরের এক ওভারে চারটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন সচিন৷ কোনটা স্পিনের বিরুদ্ধে, কোনটা ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে এসে আবার কোনটা স্পিনের পক্ষে গিয়ে ছয় মেরে ছিলেন লিটল মাস্টার৷