কলকাতা : ভারতে করোনার (Corona Virus) দ্বিতীয় ঢেউ যখন প্রবল গতিতে ছড়াচ্ছে তখন একদল মানুষ কুসংস্কার তাড়িত হয়ে সারা শরীরে গোবর (Cow Dung) মেখে চলেছেন। যারা নিজেদের শরীরে গোবর মাখছেন তাঁদের ধারণা, গায়ে গোবর মাখলে করোনা হবে না। এমন কী করোনা হওয়ার সম্ভাবনাও এর ফলে বিন্দুমাত্র থাকবে না। তবে চিকিৎসকরা এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত। তাঁরা বলছেন, এসব করতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। একটা বিপদ সামলাতে গিয়ে আর একটা বিপদকে মানুষ অন্ধ সংস্কারের দ্বারা চালিত হয়ে ডেকে আনছেন।

এই ঘটনা ঘটছে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাটে (Gujrat)। এই গুজরাটে এক সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন আজকের ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গুজরাটের একটা বড় অংশের মানুষের ধারণা করোনা হলে সারা শরীরে গোবর ও গোমূত্র (Cow Urine) মাখলে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। তার ফলে করোনা সংক্রমণ হলে সেটা যেমন সেরে যাবে তেমনই গোবর ও গোমূত্র দিয়ে স্নান করলে থাকবে না করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেখানে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার স্লোগান দেন, সেখানে তাঁর রাজ্যের মানুষের এই চিন্তা চেতনা দেখে চিকিৎসকরা অবাক। তাঁরা বলছেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী ও গুজরাটের পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মানুষদের কী শেখালেন? বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, বিজ্ঞানের তাহলে এই দেশে কী প্রয়োজন?

যদিও এর আগেই করোনাকে হারাতে গোমূত্র পান করতে হবে, এমনই দাওয়াই উত্তরপ্রদেশের বৈরিয়ার বিজেপি বিধায়ক সুরেন্দ্র সিংহ (Surendra Singh) দিয়েছেন। কী ভাবে খেতে হবে সেই গোমূত্র? তাও ক্যামেরার সামনে বসে বুঝিয়ে দিয়েছেন ওই বিজেপি বিধায়ক। পাশাপাশি বলেছেন, তিনি দিনের মধ্যে ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন, আর সেই প্রাণশক্তির উৎস গোমূত্র।। এটা নিয়ে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় উঠলে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “গোমূত্র খেয়ে উনি তো ভালোই আছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই নিজেও গোমূত্র সেবন করতেন।”

এসব ঘটনা থেকেই বোঝা যাচ্ছে কোন মানসিকতার মানুষেরা গোমূত্র পান করা ও গোবর গায়ে মাখার মতো কাজ করেন আর প্রশ্রয় দেন।

এদিকে মানুষের শরীরে গোবর মাখার ফলে কী ক্ষতি হতে পারে সেই বিষয়ে আমরা কথা বলেছিলাম চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, “এসব যারা বলছেন তাদের এই মুহূর্তে গ্রেফতার করা উচিত। এরা অশিক্ষিত, কুসংস্কারে ডুবে আছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। না হলে এরা অন্য মানুষদের প্রভাবিত করবে। আসলে গোবর চামড়ার ওপর নানান ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে। ভয়ানক রকমের চর্মরোগ হতে পারে। কারও শরীরে কোনও রকমের চর্মরোগ আগে থেকে থাকলে সেটা বড় আকার নিতে পারে। বড় রকমের সংক্রমণ হতেও পারে।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.