মিউনিখ: কেরিয়ারের সিংহভাগ সময়টা কাটিয়েছেন বাভারিয়ান জার্সি গায়েই। বায়ার্ন মিউনিখ জার্সি গায়ে তিনশোরও বেশি ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি ২০১৪ জাতীয় দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করানোর পিছনেও মাঝমাঠে গুরুদায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ২০১৬ ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে জাতীয় দলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন আগেই। এবার ক্লাব ফুটবলেও ইতি ঘটল বাস্তেন সোয়েনস্টেইগার যুগের।

মঙ্গলবার ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে পাকাপাকিভাবে বুটজোড়া ঝুলিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন জার্মানি তথা বায়ার্ন মিউনিখের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। সোশ্যাল মিডিয়ায় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তাঁর অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন প্রাক্তন বায়ার্ন মিডিও। ৮টি বুন্দেশলিগা, ৭টি জার্মান কাপের পাশাপাশি সোয়েনস্টেইগার জার্মান জায়ান্টদের হয়ে ২০১৩ জিতেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ২০০২-১৫ বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ১৩ বছরের বর্ণময় কেরিয়ারে ৩৪২ ম্যাচে সোয়েনস্টেইগারের নামের পাশে লেখা রয়েছে ৪৫ গোল।

সালটা ২০১৫। ১৩ বছরের মায়া কাটিয়ে অবশেষে কেরিয়ারের সায়াহ্নে জার্সি বদলে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে যোগদান করেছিলেন বাস্তেন। যদিও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে কাটানো দুটি মরশুম বিশেষ সুখের হয়নি সোয়েনস্টেইগারের জন্য। রেড ডেভিলসদের হয়ে মাত্র ১৮টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। গোল করেছিলেন ১টি। এরপর ২০১৭ জার্মানির অন্যতম প্রসিদ্ধ এই মিডফিল্ডার বেকহ্যাম-ইব্রাহিমোভিচদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পাড়ি দেন আমেরিকার মেজর লিগ সকারে। সেখানে শিকাগো ফায়ারের প্রথম একাদশে নিয়মিত সদস্য ছিলেন তিনি।

মেজর লিগ সকারে দু’টি মরশুমে ৮৫ ম্যাচে ৮টি গোল করেন বাস্তেন। অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবে কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলেই ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি। বিদায়বেলায় অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে এক বার্তায় ৩৫ বছরের মিডফিল্ডার বলেন, ‘সক্রিয় ফুটবলার হিসেবে ফুটবলকে বিদায় জানাতে গিয়ে নস্ট্যালজিক হয়ে পড়ছি। কিন্তু আগামীতে বেশ কিছু আকর্ষণীয় চ্যালেঞ্জ আমার জন্য অপেক্ষা করছে, সেগুলো গ্রহণ করতে আমি প্রস্তুত।’

ঘরের ছেলের বিদায়বেলায় নস্ট্যালজিক বায়ার্ন মিউনিখও। জার্মান জায়ান্টদের জার্সি গায়ে বাস্তেনের সেরা মুহূর্তগুলোকে বেছে নিয়ে একটি ফেয়ারওয়েল ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তারা। শিকাগো ফায়ারের চেয়ারম্যান বলেন, ‘সোয়েনস্টেইগার একজন প্রকৃত নেতা। একজন দুর্দান্ত টিমম্যান এবং এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার, যার কারণে শিকাগো ফায়ার আজ ফুটবলের মানচিত্রে ঠাঁই পেয়েছে।’