স্টাফ রিপোর্টার, বারুইপুর: ‘‘যেখানে মায়ের দেহ পাওয়া গিয়েছে, পুকুরের সেই জায়গাতেই রয়েছে আমার ২২ দিনের মেয়ের দেহ!’’ জেরার মুখে আপাত নিরীহ গ্রাম্যবধূর এহেন স্বীকারোক্তি শুনে চমকে উঠেছিলেন তদন্তকারীরা৷ পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার দুপুরে পুকুর থেকে উদ্ধার হল ২২ দিনের মেয়ের দেহ৷ বধূর হাতে জোড়া খুনের ঘটনায় আপাতত নির্বাক বনে গিয়েছেন বারুইপুরের উত্তরভাগ চক্রবর্তী আবাদ এলাকার বাসিন্দারা৷

সকলের মুখেই একটায় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কেন নিজের মা ও মেয়েকে খুন করলেন মুর্শিদা৷ নাকি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে৷ প্রশ্ন উঠছে, তিনি একাই কি নিজের মা ও মেয়েকে খুন করেছেন নাকি এই কাজে অন্য কেউ তাঁকে সাহায্য করেছে? তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা জানাচ্ছেন, ‘‘জেরা চলছে৷ তদন্তে সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷’’ আগামীকাল বুধবার ধৃতকে আদালতে তোলা হবে৷

সোমবার রাতে বারুইপুরের উত্তরভাগ এলাকায় নিজেদেরই পুকুর থেকে উদ্ধার হয় বৃদ্ধা সয়েরা বেগমের দেহ। তাঁর হাত, পা ও মুখ কাপড়ে করে বাঁধা ছিল৷ মাথা ও দেহের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক আঘাতের চিহ্ণ ছিল৷ প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ধাতব কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতেই হাত, পা ও মুখ বেঁধে তাঁকে পুকুরে ফেলে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা৷

বৃদ্ধার বৌমা মুর্শিদা বেগমকে উদ্ধার করা হয় সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে মুর্শিদা জানিয়েছিলেন, তিনি মারা গিয়েছেন ভেবেই দুষ্কৃতীরা তাঁকে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে পালিয়েছে৷ ঘটনার পর থেকেই মুর্শিদার ২২দিনের কন্যার কোনও খোঁজ মেলেনি৷ দুষ্কৃতীরা তাকে অপহরণ করেছে বলেই জানিয়েছিল মুর্শিদা৷

তদন্তকারী এক পুলিশ অফিসারের কথায়, ‘‘আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম. বাইরের বা অপরিচিত কোনও দুষ্কৃতীর পক্ষে ভর সন্ধেয় এভাবে একই পরিবারের তিনজনকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুনের চেষ্টা করা অসম্ভব’’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় গত ২২ অক্টোবর সোনা সর্দার নামে পেশায় মাংস ব্যবসায়ী স্থানীয় এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। মৃত বৃদ্ধার পুকুর থেকেই উদ্ধার হয়েছিল সোনার দেহ৷ ঘটনায় পর নিহত যুবকের পরিবারের তরফে সয়েরা বেগমের পরিবারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। স্বাভাবিকভাবেই সোমবার রাতে বৃদ্ধা খুনের ঘটনায় ওই যুবকের পরিবারের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন মুর্শিদা৷

পুলিশ সূ্ত্রে জানা যায়, মুর্শিদার বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ছিল৷ তাছাড়া একই সঙ্গে অপহরণ করে মাকে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে হাত, পা বেঁধে পুকুরের জলে ফেলে মেরে ফেলা হল, অথচ মেয়ে বাধা দিতে পারল না৷ কোনও চিৎকার করতে পারল না, স্রেফ তাঁকে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দুষ্কৃতীরা পালাল-এই তথ্যে প্রথম থেকেই পুলিশের অসঙ্গতি লাগছিল৷ এরপরই টানা জেরার মুখে ভেঙে পড়ে মুর্শিদা৷ পুলিশের দাবি, জেরায় সে মা ও মেয়েকে খুনের কথা কবুল করেছে৷

তবে ঠিক কি কারনে নিজের মা ও মেয়েকে খুন করলেন বধূ, তা নিয়ে ধন্দে পুলিশও৷ ঘটনার পিছনে সম্পত্তি কিংবা অবৈধ প্রণয়ের সম্পর্কও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ৷ পুলিশ জানিয়েছে, ‘‘তদন্তে সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷’’ বধূর হাতে মা ও মেয়ের খুনের ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা কার্যত ‘থ’ বনে গিয়েছেন৷