বারুইপুর: খোদ মহকুমাশাসকের অফিসের সামনেই বিদ্রোহী কবি কাজি নজরুল ইসলামের মূর্তি ঢাকা পড়ল বালির স্তূপে। দিনভর এভাবেই বালির স্তূপে আটকে পড়ে নজরুলের মূর্তি। বিদ্রোহী কবির মূর্তি বালি ঢাকা পড়তেই সরব হন এলাকার বিশিষ্টজনেরা। মহকুমাশাসকের দফতরের নাগের ডগায় এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে এলাকায়। বারুইপুরের সংস্কৃতিপ্রেমীরা প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। নজরুল ইসলামকে অপমান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন কেউ কেউ। শেষমেশ স্থানীয় বাসিন্দারাই নজরুলের মূর্তির সামনে থেকে বালি সরিয়ে ফেলতে তৎপর হন।

বারুইপুর টাউন লাইব্রেরির সামনেই সামনেই কাজি নজরুল ইসলামের একটি মূর্তি রয়েছে। নজরুলের মূর্তির ঠিক উলটোদিকেই বারুইপুর মহকুমাশাসকের দফতর। বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপারের দফতরও এই একই বিল্ডিংয়ে। বৃহস্পতিবার রাতভর বারুইপুর কুলপি রোডের ধারে নজরুল ইসলামের মূর্তির সামনেই বালি ফেলা হয়। শুক্রবার দিনভর বিদ্রোহী কবির মূর্তি ঢাকা থাকে বালির স্তূপে। পথচলতি বহু মানুষই নজরুল ইসলামের মূর্তির সামনে বালি পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবাদে সরব হন। কিন্তু কেউই এগিয়ে এসে সেই বালি সরাতে তৎপরতা দেখাননি। তবে বিষয়টি একেবারেই মেনে নিতে পারেননি বারুইপুরের সংস্কৃতিমনষ্ক মানুষজন। অবিলম্বে বালি সরাতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি করেন তাঁরা। নজরুল ইসলামকে অপমান করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন অনেকে।

প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগে নজরুল ইসলাম জন্ম শতবার্ষিকী কমিটি বারুইপুর টাউন লাইব্রেরির উদ্যোগে কাজি নজরুল ইসলামের মূর্তি বসানো হয়েছিল। স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগ, এভাবে কাজি নজরুল ইসলামের মূর্তির সামনে বালি ফেলে তাঁকে অপমান করা হচ্ছে। অবিলম্বে প্রশাসন দায়িত্ব নিয়ে এই বালি সরিয়ে দিক।

আরও পড়ুন- থার্মোকলের ব্যবহার কমাতে ব্যর্থ সোশ্যাল মিডিয়া, ‘পিকনিক পার্টি’কে রুখল স্বেচ্ছাসেবীরা

এমনিতেই নজরুলের মূর্তি বসানোর পর থেকেই তা রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ হেলদোল নেই বারুইপুর টাউন লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের। দীর্ঘদিন নজরুল ইসলামের মূর্তিতে রংও করা হয়নি। এই বিষয়ে বারুইপুর পুরসভার চেয়ারম্যান শক্তি রায় চৌধুরী বলেন, ‘অতি নিন্দনীয় কাজ হয়েছে। মণীষীর মূর্তি যাঁরা বসিয়েছেন তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তাঁদের। তাঁদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। এটাই চাই।’

অন্যদিকে, নজরুল ইসলাম শতবার্ষিকী কমিটির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক দিলিপ সরকার কবির মূর্তির সামনে বালি ফেলার বিষয়টির তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে আর্জি, বালি সরানোর তাঁরা উদ্যোগী হন। যাঁরা ওই কাজ করেছে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’ বারুইপুরের মহকুমাশাসক দেবারতি সরকারও বিষয়টির নিন্দা করেছেন।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যম সোচ্চার হতেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয়দেরই একাংশ। নজরুল ইসলামের মূর্তির সামনে বালি পড়ে থাকার খবর করতে গিয়েছিলেন সাংবাদিকরা। বালি ফেলে রাখার ঘটনার সমালোচনার ঝড়ও উঠেছে বিভিন্ন মহলে। তড়িঘড়ি এলাকারই কয়েকজন নজরুলের মূর্তির সামনে থেকে বালি সরিয়ে ফেলতে উদ্যোগী হন।