স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রেমিকার সমাধিতে তাজমহল বানানোর কথা আমরা জানি৷ কয়েকশ বছর আগে মুঘল সম্রাট শাহজাহান এই অনন্য কীর্তিটি স্থাপন করে বেগম মুমতাজ এবং নিজেকে অমর করেছেন৷ কিন্তু সে তো গেল রাজ-রাজড়াদের ব্যাপার৷ আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রেমের জন্য মন্দির বানানোর কথা কেউ ভাবতে পারে? হ্যাঁ পারে৷ তার নাম দেবদাস সর্দার৷ যিনি মৃত সন্তানের স্মৃতিতে বানিয়ে ফেলেছেন আস্ত একখানা মন্দির৷ ছেলের নামে সেই মন্দিরের নাম রেখেছেন আকাশের কাছে৷

দক্ষিণ কোলকাতা থেকে প্রায় ২৬ কিমি দূরত্ব বাংলা তথা ভারতের একমাত্র প্রেমের মন্দিরটির৷ বারুইপুর বাইপাশের উপর আকাশের কাছে নামে এই মন্দিরটিতে পুজো করা হয় বেশ কয়েক বছর আগে মারা যাওয়া দেবদাস বাবুর ছেলে আকাশের৷ কিন্তু ছেলের মারা যাওয়াতে তার স্মৃতিতে প্রেমের মন্দির বানাতে গেলেন কেন? আকাশের কাছে নামে মন্দিরটির আশেপাশে থাকা জনবসতিতে এ নিয়ে একটি গল্প প্রচলিত রয়েছে৷ পেশায় রেশন ডিলার দেবদাস বাবুর ছেলে আকাশ সর্দার উচ্চমাধ্যমিক পড়ার সময় একটি মেয়ের প্রেমে পড়ে৷ জাতিগত বাধা থাকায় এই প্রেম মেনে নিতে পারেননি দেবদাস বাবু৷ অনেক চেষ্টা করেও বাবা রাজি না হওয়াতে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করে আকাশ৷ ছেলের এই রকম মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন দেবদাস বাবু৷ এরপরই ছেলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে বানিয়ে ফেলেন আস্ত একখানা ‘প্রেমের মন্দির’ যেখানে প্রেমিক-প্রেমিকারা এসে প্রার্থনা করে যায় তাদের প্রেমে সফল হওয়ার৷

পড়ুন: এখন থেকে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে তামিলনাড়ুর দোকানগুলি

কী এমন কারণ ছিল যে ছেলের প্রেমে মেনে নিতে পারেননি আকাশের বাবা? লোকশ্রুতি মেয়েটি মুসলিম ধর্ম এবং বয়সে আকাশের থেকে বড় হওয়ার কারণেই স্বীকৃতি দিতে রাজী ছিলেন না দেবদাস বাবু৷ তবে এই গল্পের পাশাপাশি আরও একটি গল্প প্রচলিত আছে আকাশের মৃত্যু নিয়ে৷ প্রেমের কারণে আত্মহত্যার কথাকে পাত্তা না দিয়ে অনেকেই বলেন আসলে বাবার কিনে দেওয়া বাইক অ্যাক্সিডেন্টেই মৃত্যু হয়েছে আকাশের৷ তবে এই ঘটনারও প্রত্যক্ষ কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি৷

প্রচলিত গল্প যাই হোক না কেন৷ প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে আকাশ কিন্তু আইডল৷ বারুইপুরের আকাশের কাছে মন্দিরটিতে প্রায় প্রতিদিনই কাপলরা আসেন মোমবাতি, প্রদীপ জ্বালান আকাশের সমাধি এবং ছবিতে৷ প্রার্থনা করেন তাদের প্রেম সফল হওয়ার৷

মন্দিরের একটা দেওয়ালে লিখে রেখে যান নিজেদের নাম৷ তবে শুধু আকাশের সমাধি কিংবা ছবি নয় সঙ্গেই মন্দিরটিতে প্রেমের দেবতা রাধা কৃষ্ণ এবং শিবলিঙ্গ রয়েছে৷ কিছুটা প্যাগোডা আকৃতির এই মন্দিরের একটি ঘরে রয়েছে আকাশের ব্যবহৃত জিনিজপত্র৷ তার ডাইরির পাতা থেকে কিছু অংশ মন্দিরের মধ্যে পাথর ফলকে লেখা হয়েছে৷ এভাবেই বিগত কয়েক বছর ধরে বারুইপুরের আকাশের কাছে মন্দিরটিতে পূজিত হয়ে আসছে প্রেম৷