স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : উত্তর ২৪ পরগণা , দক্ষিণ ২৪ পরগণা, কলকাতা, মেদিনিপুর, হাওড়া, হুগলী, শুক্রবারেই বর্ষা প্রবেশ করছে। এমনটাই জানাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় প্রবেশ করবে বর্ষা। শনিবারের মধ্যে সারা রাজ্যকেই বর্ষার চাদরে মুড়ে ফেলবে মৌসুমি বায়ু। এমনটাই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

অধিকর্তা গনেশ কুমার দাস বলেন , “উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। তার হাত ধরেই বাংলায় বর্ষা প্রবেশ করবে। কাল থেকে যার জন্য দক্ষিণবঙ্গের ওই জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। তারপর বৃষ্টি বাড়তে পারে।” তাপমাত্রাও কমবে। আবার বৃষ্টি না হলে তখন আর্দ্রতাজনিত গরম থাকবে। দিন সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক। বুধবারও একইরকম ছিল সকালের পারদ, মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে যা দুই ডিগ্রি বেশি। ফলে স্পষ্ট যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমছে। সকালের আবহাওয়ার পরিস্থিতি থেকে সেই ইঙ্গিত মিলছে। তবে সর্বোচ্চ আর্দ্রতার পরিমাণ কোনওভাবেই কমেনি। অর্থাৎ বেলার গড়ালে হাওয়া অফিসের আর্দ্রতা মাপক যন্ত্র জানিয়ে দিচ্ছে সর্বোচ্চ আর্দ্রতা কিছুতেই নব্বইয়ের নীচে নামছে না।

বৃহস্পতিবার শহরের আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৬ শতাংশ।বুধবার শহরের সর্বোচ্চ আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৬ শতাংশ। মঙ্গলবার তা ছিল সর্বোচ্চ ৯৫। কমেছে সর্বনিম্ন আর্দ্রতার পরিমাণ। এদিন সকালে কলকাতার বাতাসে সর্বনিম্ন আর্দ্রতার ৫৩ শতাংশ।বুধবার যা ছিল সর্বনিম্ন ৬৮ শতাংশ। মঙ্গলবার তা ছিল সর্বনিম্ন ৬৭ শতাংশ। ফলে এদিন সকাল থেকে শহরের আবহাওয়ার পার্থক্য গড়ছে সর্বনিম্ন আর্দ্রতার পরিমাণও।

প্রসঙ্গত ১৬ জুন হাওয়া অফিস জানিয়েছিল উত্তরপূর্ব ভারতের দোরগোড়ায় থমকে থাকার পর আবার সে এগোনোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সেই দিনেই কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়ে দিয়েছিল উত্তরবঙ্গের কিছু অংশে আসার পর পাটীগণিতের ঐকিক নিয়মের নিয়ম অনুযায়ী অঙ্ক কষলে দক্ষিণবঙ্গে তা প্রবেশ করার কথা ২১ জুন। ঠিক সেই অঙ্ক মেনেই আসছে বর্ষা। যা শনিবারের মধ্যে সারা রাজ্যকে ঘিরে ফেলবে। ১৭ জুন নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১১ দিন পর বাংলায় প্রবেশ করে বাংলায়। নিয়ম মেনে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর একটা অংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে অসমের গোয়ালপাড়া, আলিপুরদুয়ার ও গ্যাংটকের দিয়ে প্রবেশ করে।