আগরতলাঃ আপাতত স্বস্তির খবর শোনাল হাওয়া অফিস। অবশেষে বর্ষা ঢুকছে ত্রিপুরায়। গত ২৪ ঘন্টা আগে থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ছামনুতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা গেছে ১৯ সেন্টিমিটারের উপর। অব্যাহত রয়েছে বৃষ্টিপাত। এমতাবস্থায় মনু আর ডি ব্লকের অন্তর্গত ধুমাছড়া এ ডি সি ভিলেজের রতন রোয়াজা পাড়ায় ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতির উদ্রেগ হয়েছে। মনু নদীর জল স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে বেশ কিছু এলাকা। বৃষ্টিতে বাড়ি ঘরে জল ঢুকে অবস্থা শোচনীয় আকার ধারন করেছে। পাহারী এলাকায় প্রবল বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় পাঠানো হচ্ছে উদ্ধারের ব্যবস্থা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থদের প্রাথমিক ভাবে সহায়তা প্রদান করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। এদিকে, ফের একবার সমস্যার মধ্যে হল পুরসভার সাধারণ মানুষকে। শুক্রবার সকাল থেকে হাল্কা ও মাঝারি বৃষ্টির ফলে জল মগ্ন হয়ে পড়েছে আগরতলা পুর নিগমের বিভিন্ন এলাকা। রাজধানী আগরতলার শকুন্তলা রোড, রবীন্দ্র ভবন, আর এম এস চৌমুহনী সহ বিভিন্ন জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। তবে তার জন্য শুধুমাত্র আগরতলা পুর নিগম দায়ী তা নয়। আগরতলা পৌর নিগমের পাশাপাশি নিগম এলাকায় বসবাসকারী একাংশ মানুষও তার জন্য দায়ি তা বলা বাহুল্য।

আগরতলা পুরনিগমের বেহাল জল নিষ্কাশনি ব্যবস্থার ফলে হাল্কা ও মাঝারি বৃষ্টিতে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তার চেয়ে বড় বিষয় যত্রতত্র প্লাস্টিকের বোতল সহ অপচনশীল বর্জ্য ফেলার ফলে এই সকল বর্জ্য নিগম এলাকার নিষ্কাশনি ব্যবস্থাকে স্তব্ধ করে দেয়। এতে করে অতি দ্রুত নিগম এলাকার রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পরে। শুক্রবারও একই ছবি ধর পড়ে সর্বত্র। এইদিনের সামান্য বৃষ্টিতে নিগম এলাকার বহু রাস্তায় হাঁটু সমান জল জমে যায়। নিগম এলাকার বাসিন্দাদের আশঙ্কা আগামিদিনে ভারি বৃষ্টি হলে বিগত বছরের ন্যায় এই বছরও নিগমের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়বে। যদিও নিগমের সাফাই কর্মীদের বক্তব্য, প্লাস্টিকের বোতল ও অপচনশীল বর্জ্য নিগম এলাকার নিকাশি ব্যবস্থাকে স্তব্ধ করে দেয়। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পরে নিগম এলাকার বহু রাস্তা।

তবে, হাঁসফাঁস গরমের মাঝে শুক্রবার সকাল থেকে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি, স্বস্তি ফিরিয়ে আনল জন জীবনে। গত বেশ কয়েকদিন ধরে মাত্রাতিরিক্ত গরমের ফলে এক অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। মাত্রাতিরিক্ত গরমের ফলে মানুষ একপ্রকার নাজেহাল হয়ে পড়েছিল। এই গরমে একটু স্বস্তির সন্ধানে ছিল সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় হাল্কা ও মাঝারি বৃষ্টি। সকাল থেকে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির ফলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে জন জীবনে। সাধারণ মানুষের বক্তব্য বৃষ্টি নেমে আসায় ভালো হয়েছে। হাঁসফাঁস গরম অসহনীয়। বৃষ্টি হলে ভালো। বৃষ্টি হলে রাস্তাঘাটে জল থাকে তারপরও বৃষ্টি ভালো।