স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রাক প্রাথমিকের পাঠ্যক্রমে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রণীত ‘বর্ণ পরিচয়’ অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। এ নিয়ে প্রাথমিকভাবে একপ্রস্থ আলোচনাও হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রাক প্রাথমিকে ই-কন্টেন্ট তৈরি করা হয়েছে। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চলছে। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের আধিকারিকরা বলছেন, বিষয় এবং সিলেবাস ঠিক করবে সিলেবাস কমিটি। তা আমাদের কাছে আসবে। তারপর মতামত দেওয়া যাবে।

সম্প্রতি বিজেপির বিরুদ্ধে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পাশাপাশি এ বছর বিদ্যাসাগরের জন্মের দ্বিশতবর্ষ পূর্তির বছর। শিক্ষামহলের মতে, এই দুই কারণে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে পাঠ্য বইয়ে ‘বর্ণ পরিচয়’ অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছে সরকার।

বর্তমানে প্রাক প্রাথমিকে তিনটি বই রয়েছে — বিহান, কাটুম-কুটম এবং মজারু। তার মধ্যে মজারু হচ্ছে বাচ্চাদের শব্দের সঙ্গে পরিচয় করানোর জন্য। কাটুম-কুটুম বইয়ে বাচ্চাদের ছবি আঁকা, রং করার পাশাপাশি ছবির সঙ্গে পরিচয় করাবে।

এবার বর্ণের সঙ্গে পরিচয় ঘটাতে উদ্যোগী শিক্ষা দফতর। প্রাক প্রাথমিকে ‘বর্ণ পরিচয়’ ঢুকিয়ে বুনিয়াদি শিক্ষার বৃত্ত সম্পূর্ণ করাই লক্ষ্য শিক্ষাকর্তাদের। তবে শিক্ষামহলের প্রশ্ন, এত দেরিতে কেন বর্ণ পরিচয় চালু করার কথা ভাবা হল? ২০১২ সালের পর সিলেবাস কমিটি বিভিন্ন শ্রেণীর সিলেবাস ঠিক করেছে। প্রথম থেকেই কেন বাচ্চাদের সিলেবাসে ‘বর্ণ পরিচয়’ অন্তর্ভুক্ত করা হল না!

দফতরের কেউ কেউ বলছেন, বিদ্যাসাগরের দ্বিশতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে রাজ্য সরকার নানা পরিকল্পা নিয়েছে। স্কুল-কলেজে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বেশ কিছু কর্মসূচি নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে শিক্ষা দফতর থেকে। সিলেবাসে বর্ণ পরিচয়কে ঢোকানোও তার একটি অঙ্গ বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষেই হয়তো প্রাক প্রাথমিকে বর্ণ পরিচয়ের প্রবেশ ঘটবে।