কলকাতা : বাংলা-সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চলছে করোনা দ্বিতীয় ঢেউ (corona second wave)। চেন ভাঙতে পশ্চিমবঙ্গে রবিবার থেকে কার্যত লকডাউন ঘোষণা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন রাজ্য সরকার। বহু পুজো কমিটি এই সঙ্কট কাটাতে এগিয়ে এসেছে। এবার সাবর্ণপাড়া বড়িশা সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির উদ্যোগে চালু হল অক্সিজেন পার্লার।

অক্সিজেন পার্লার উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে তিনি সহযোগিতায় করেছেন এই পার্লার তৈরিতে। করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময়েও বড়িশা সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজো কমিটি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে এগিয়ে এসেছিল। ওই বছর আমফান ঘূর্ণিঝড়ে যখন বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রচুর সমস্যা দেখা গিয়েছিল। বড়িশা সর্বজনীন দুর্গতদের হাতে পৌঁছে দিয়েছিলেন নানা সামগ্রী। দ্বিতীয় ঢেউয়ের ফের মানুষকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছে তারা।

পার্লারটি তৈরি হয়েছে সাবর্ণপাড়া বড়িশা সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ক্লাবঘরের প্রথম তলাতেই। উদ্যেগে সহায়তা করেছে শ্রীশ্রী চণ্ডীপূজা সমিতি, বড়িশা দীপ্তি সংঘ, বড়িশা স্পোর্টিং ক্লাব। তাদের সহায়তা করছেন চিকিৎসক রোহিত ঘোষ ও পার্থসারথি সেনগুপ্ত।

সম্প্রতি নাকতলা উদয়ন সংঘ(bangala udayan sangha) টেলি মেডিসিনের(medicine) ব্যবস্থা করেছে।

ডঃ অভিজিৎ চক্রবর্তী প্রত্যেক শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে আটটা দেখবেন করোনা আক্রান্তদের। অনলাইনে তিনি আক্রান্তদের খোঁজ নেবেন, দেবেন প্রয়োজন মতো ওষুধ ও পরামর্শ। পাশাপাশি বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করেছে তারা। ওই ক্লাব পুরসভার ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পরে। সেখানকার মানুষের যেদিন খাবার লাগবে তার আগের দিন ক্লাব কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। মিলবে সাহায্য। এই পরিষেবা অবশ্য ৫ মে থেকেই চলছে ওই অঞ্চলে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছে ফোরাম ফর দুর্গোৎসব(forum for durgatsav)। ১০ মে নবান্ন সভাঘরে এই পুজো সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা হয়। কীভাবে নিজেদের অঞ্চলে করোনা সতর্কতা বাড়ানো হবে এবং তা নিয়ে কাজ করা হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনা এবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

শহরের সমস্ত বড় বাজারে জনসচেতনতার আয়োজন করা হয়েছে। ক্লাবগুলি জোন ভিত্তিক এই কাজ করবে। সকাল সাতটা থেকে দশটা একদল ক্লাব সদস্য জনসচেতনতার প্রচার করবে আবার দশটা থেকে বারোটা পর্যন্ত আরও একটি দল নিজেদের এলাকায় এই কাজে নামবে। প্রচারে সাহায্য করেছেন লোপামুদ্রা মিত্র ও সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। টানা দু’দিন চলবে এই প্রচার। শনিবার ও রবিবার হবে এই কাজ।

গত ৫ মে শপথ নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ তাঁর সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলাই আপাতত তাঁর প্রাথমিক এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই কথা রাখলেন তিনি।

গত সোমবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে করোনা সংক্রমণ রুখতে এবং অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক করতে একাধিক সিদ্ধান্ত নিল তাঁর সরকার। রাজ্যের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের পাশে দাঁড়িয়েছে পুজো কমিটিগুলিও। আবার অক্সিজেন সংকট কাটাতেও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার ক্যাবিনেট বৈঠকের পর বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন, পূজা উদ্যোক্তাদের সংগঠন ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সঙ্গে বৈঠকে বসে। তারপরেই হয় এই সিদ্ধান্ত।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.