গলসী (পূর্ব বর্ধমান)– ছেলে,বউমা বা নাতনিরা বেঁচে থাকলে সম্পত্তির ভাগ কমবে এমনই হয়ত মনে হয়েছিল৷ সেই আক্রোশ থেকে সবাইকে একসঙ্গে পুড়িয়ে মারার ছক করে ফেলে ইউসুফ শেখ৷ ঘুমন্ত অবস্থায় পরিবারের সবাইকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেও পারেনি৷ তবে এই ঘটনার পরেই সে পলাতক৷ ঘটনা পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসীর ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম৷

এদিকে পলাতক ইউসুফের ছেলে, বউমা ও দুই নাতনি আগুনে পুড়ে গুরুতর জখম৷ তাদের চিকিৎসা চলছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে৷  জখম শেখ ইকবাল, তার স্ত্রী তুহিনা বেগম এবং তাদের দুই সন্তান সোহানা ও বিলকিসের অবস্থায় বেশ আশঙ্কাজনক।

জানা গিয়েছে, শেখ ইউসুফের সঙ্গে তার ছেলে শেখ একবালের দীর্ঘদিন ধরেই জায়গা জমি নিয়ে বিবাদ চলছিল। সেই বিবাদের জেরে মঙ্গলবার গভীর রাতে ইউসুফ দরজার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে জানালা দিয়ে ছেলের ঘরে আগুন ছুঁড়ে দেয়।  ঘুমন্ত অবস্থায় চার জনই মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়। প্রতিবেশীরা তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। গলসী থানার পুলিশ শুরু করেছে তদন্ত৷

এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, মাঝ রাতে শেখ ইউসুফ বাইরে থেকে ছেলে-বউমার ঘরে তালা মারে৷ তার পরে একটি গ্যাস সিলিন্ডারের এনে তার পাইপ জানালা দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়৷ গ্যাস চালিয়ে সেই পাইপের মুখে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এদিকে আগুন লেগেছে বুঝতে পেরেই ঘরের ভিতর থেকে সবাই প্রাণভয়ে চিৎকার করতে থাকেন৷ কিন্তু দরজায় তালা থাকায় কেউ বাইরে বের হতে পারেনি৷ চিৎকারে ছুটে আসে প্রতিবেশীরা৷ তারই দরজা ভেঙে সবাইকে উদ্ধার করে৷ ততক্ষণে আগুন লেগে প্রত্যেকেই ভীষণভাবে দগ্ধ৷

বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় একটি বাচ্চা ছাড়া বাকি তিনজনের নব্বই শতাংশ পুড়ে গেছে৷