প্রতীকী ছবি

বর্ধমান: গর্ভবতী একটি কুকুরকে গায়ে আগুন লাগিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগে সরগরম বর্ধমান শহর৷ জানা গিয়েছে, শহরের গোদা খন্দকর পাড়া এলাকার এক মহিলা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে৷ তার বিরুদ্ধে বর্ধমান থানায় অভিযোগ জমা করেছে পশুপ্রেমী সংগঠন।

এই ঘটনায় ওই সারমেয়টির সদ্য জন্ম নেওয়া দুটি বাচ্চা আগুনে পুড়ে রবিবার রাতেই মারা যায়। সোমবার বিকেলে অর্ধ দগ্ধ মা সারমেয়টি আরো তিনটি মৃত সন্তান জন্ম দেওয়ার পর সেও মারা যায়। ইতিমধ্যে এই পৈশাচিক ঘটনার বর্ধমান থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মঙ্গলবার বর্ধমানের নবাবহাট পশু হাসপাতালে মৃত কুকুরগুলির ময়না তদন্ত করা হয়।

সম্প্রতি কলকাতায় এনআরএস হাসপাতালে একসঙ্গে ১১টি কুকুরকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়৷ সেই ঘটনায় তীব্র আলোড়ন ছড়ায় রাজ্যে৷ তারপর অনেক বিতর্ক হয়েছে৷ এবার সেই বিতর্কের রেশ ধরে পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহর গর্ভবতী কুকুরকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে৷ মর্মান্তিক এই ঘটনায় আলোড়ন পড়েছে শহর জুড়ে।

বর্ধমান শহরের একটি পশু প্রেমী সংগঠন এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সদস্য অর্ণব দাস জানিয়েছেন, শহরের গোদা খন্দকর পাড়ার বাসিন্দা পেশায় আয়া রবিবার রাতে তার বাড়ির সামনে একটি গর্ভবতী কুকুরকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে এবং তার সদ্য জন্ম নেওয়া দুটি বাচ্চাকে মেরে ফেলা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের সংস্থায় এই ঘটনার বিষয়ে জানান। পরের দিন বিকেলে আধ পোড়া মা কুকুরটি আরো তিনটি মৃত সন্তান প্রসব করার পর ওই মা কুকুরটিও মারা যায়।

অর্ণব বাবু জানিয়েছেন, অভিযুক্ত মহিলার সঙ্গে তারা যোগাযোগ করতে না পারলেও স্থানীয় সূত্রে জানতে পেরেছেন যে, ওই কুকুরটি অভিযুক্তের বাড়ির মুরগি খেয়ে নিয়েছিল। তাছাড়া প্রায়ই বাড়িতে ঢুকে উৎপাতও করতো। আর তার জন্যই নিরীহ, অবলা পশুগুলিকে পুড়িয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন ওই মহিলা। তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাঁরা। পাশাপাশি দোষীর উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেছেন সংস্থাগত ভাবে৷