ইস্তানবুল: বার্সেলোনা মিডফিল্ডার আর্দা তুরানের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করল তুরস্কের একটি আদালত। প্রকাশ্যে বন্দুকচালনা, ইচ্ছাকৃত আঘাত ও বেআইনি অস্ত্র নিজের কাছে গচ্ছিত রাখার অভিযোগে তাঁকে ৩২ মাসের কারাদন্ডের নির্দেশ দিল আদালত।

তবে আদালতের এই রায়ের বাস্তবায়ন হওয়ার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তুরস্কের জাতীয় দলের এই ফুটবলারের জেলে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনই নেই। শর্তসাপেক্ষে আদালত জানিয়েছে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে তুরান ফের কোনও অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তবেই তাঁকে হাজতবাস করতে হবে। বার্সেলোনা থেকে লোনে আপাতত তুরস্কের ক্লাব বাসাকসেহিরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ তুরান। উল্লেখ্য, ২০১৯ অক্টোবরে ইস্তানবুলের একটি নাইটক্লাবে পপস্টার বার্কে সাহিনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এরপর ঘুষিতে সাহিনের নাকও ভেঙে দেন তুরান। এখানেই শেষ নয়। ঘটনাক্রমে হাসপাতালে পৌঁছে প্রকাশ্যে বন্দুক চালিয়ে বসেন তুরস্কের জাতীয় দলের এই স্ট্রাইকার। যা রীতিমতো ভীতির সঞ্চার করে সাধারণ মানুষের মনে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে বাসাকসেহির তুরানকে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ ইউএস ডলার জরিমানা করে। কোর্টে তুরানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে প্রাথমিকভাবে প্রসিকিউটররা তাঁর ১২ বছরের কারাদন্ড দাবি করে। একইসঙ্গে পপস্টার সাহিনের স্ত্রীকে তুরান যৌন নিগ্রহ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। যদিও সেই মামলায় রেহাই পেয়েছেন ফুটবলারটি। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক বিবৃতিতে সমস্ত ঘটনার দায় স্বীকার করে তুরান তাঁর পরিবার ও ক্লাবের থেকে ক্ষমাও চেয়ে নেন।

২০১৫ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে ৩৪ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে কাতালান ক্লাব বার্সেলোনায় যোগদান করেন আর্দা তুরান। বার্সার জার্সি গায়ে ৫৫ ম্যাচে ১৫ গোল করার পাশাপাশি ৪টি ট্রফিও জেতেন তুরস্কের এই ফুটবলার। এরপর ২০১৭-১৮ মরশুমে বার্সেলোনা থেকে তুরস্কের ক্লাবে যোগদান করেন তিনি। দেশের জার্সি গায়ে ১০০ ম্যাচে তুরানের নামের পাশে রয়েছে ১৭টি গোল।