মাদ্রিদ: করোনার প্রকোপ থেকে পুরোপুরি নিস্তার কবে পাওয়া যাবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয় কেউই। তবে পরিস্থিতি সামান্য উন্নতি হওয়ায় ইউরোপের দেশগুলিতে ধীরে ধীরে শিথিল করা হচ্ছে লকডাউন। আর লকডাউন শিথিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পেন-ইতালির মত করোনায় ব্যাপকভাবে প্রভাবিত দেশগুলিও নিজেদের দেশে ফুটবল ফেরানোর চেষ্টায় রয়েছে।

লিগ পুনরায় কবে শুরু হবে তা নিশ্চিত না হলেও আপাতত ফুটবলারদের অনুশীলনের ছাড়পত্র দিয়েছে তারা। কিন্তু লিগ পুনরায় যদি চালু করা নিতান্তই সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে কী হবে লিগের ভবিষ্যৎ? ফ্রান্সে প্রিমিয়র ডিভিশন ফুটবল লিগ যেমন ইতিমধ্যেই বাতি হয়ে গিয়েছে। করোনায় লিগ স্থগিত হওয়ার সময় পয়েন্টের নিরিখে এগিয়ে থাকায় পিএসজি’কেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছে লিগা ওয়ান কর্তৃপক্ষ। লা-লিগাও যদি একই পথ অনুসরণ করে তাহলে লিগ টেবিল অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা বার্সেলোনার।

কিন্তু বাস্তবে এমনটা হলে সেতা কোনওমতেই মেনে নেবেন না রিয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতি মারফত তিনি বলেন, ‘আমরা বার্সেলোনার চেয়ে মাত্র ২ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছি, তাই আমরাও এখনও সমানভাবে চ্যাম্পিয়নের দাবিদার। মরশুম বাতিল করা হলে সেটা দুর্ভাগ্যজনক। একইসঙ্গে যদি তারা বার্সেলোনাকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে, তবে সেটা একেবারেই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। বার্সেলোনা আমাদের বিপক্ষে একটি ম্যাচ ড্র করেছে এবং একটিতে হেরেছে। আমরাই ওদের বিরুদ্ধে সেরা দল হিসেবে প্রতিপন্ন হয়েছি। আমরা তাদের চেয়ে ২ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকলেও বার্সাকে চ্যাম্পিয়ন করার সিদ্ধান্ত মানব না।’

এ প্রসঙ্গে ইংলিশ প্রিমিয়র লিগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ইপিএলে লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হলে তবু ঠিক আছে। ওরা অনেক পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।’ কিন্তু কুর্তোয়ার কথায়, লা লিগার যা অবস্থান তাতে ১১ ম্যাচ আগে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া একেবারেই অনুচিৎ।

দেড় মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত পৃথিবীজুড়ে করোনার জেরে শিকেয় উঠেছে খেলাধূলা। স্থগিত ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি সহ পৃথিবীর প্রথম সারির প্রিমিয়র ডিভিশন লিগগুলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলেও গত দু’মাস ধরে চলা মৃত্যুমিছিলে কিছুটা হলেও লাগাম টানা গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আশার আলো দেখছে ইউরোপিয়ান ফুটবল। লিগ শুরুর ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা সর্বপ্রথম গ্রহণ করে ইতালি। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ফুটবলারদের ব্যক্তিগত অনুশীলনের অনুমতি দেয় তারা। এরপর ইতালির পদাঙ্ক অনুসরণ করে একই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে করোনায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ ইউরোপের আরেকটি দেশ স্পেন।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব