স্টাফ রিপোর্টার, বারাসাত: এক মায়ের ফুটবল মাঠে মেয়েদের নিয়ে লড়াই দেখল উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত। বাঁকুড়ার অখ্যাত ফুটবল ক্লাব আদিবাসী তরুনী ব্রজেন সংঘ কলকাতা মহিলা ফুটবল লিগে দাপিয়ে খেলছে কোচ কাম মেন্টর ভারতী মুদি ও তার তিন মেয়ের কাঁধে ভর করে। না, ওরা এতদিন প্রচারের আলোয় আসেনি, কিন্তু ওদের নজর কাড়া ফুটবল মন কেড়েছে সোমবার বারাসাত স্টেডিয়ামে উপস্থিত কয়েকশো ফুটবল প্রেমীর। এগোচ্ছে বাংলা, পিছিয়ে নেই বাংলার মহিলা ক্রীড়া জগৎও ।

বিরল দৃশ্যের সাক্ষী এবার বারাসাত বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গন। মা ও মেয়ে ভিন্ন ভূমিকায় একই সঙ্গে ময়দানে। আবহ পুরোন, চিত্র ও প্রেক্ষাপট নতুন। সৌজন্য, মহিলা কোচ ভারতী মুদি ও তাঁর তিন ফুটবলার কন্যা। তুলনা টানলে বলতে হয় এক অন্য চিত্রা গঙ্গাধরণকে দেখল বারাসাত স্টেডিয়াম।

আরও পড়ুন : তৃণমূল সরকারকে উপড়ে ফেলার ভোট হবে বাংলায়: অমিত শাহ

অতীতের ফুটবল তারকা ও পরবর্তীতে ভারতের গোলকিপিং কোচ চিত্রা যেভাবে নিজের মেয়ে অমূল্য কমলকে ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলে কোচিং করিয়েছিলেন, সেই পরম্পরা মেনে আজ তিন মেয়ে কেয়া, তানিয়া, পূজাকে মাঠে নামালেন কোচ কাম মেন্টর তাদের মা ভারতী মুদি।

কলকাতা মহিলা ফুটবল লিগে আজ বাঁকুড়ার “আদিবাসী তরুণী ব্রজেন সংঘ” এর হয়ে নেমেছিল মা ভারতীর তিন কন্যা সহ এগারো জনের ব্রিগেড। বড় মেয়ে গোলকিপার কেয়া মুদি, মধ্যম জন ডিফেন্সে তানিয়া মুদি ও স্ট্রাইকার ছোট মেয়ে পূজা মুদি।

সোমবার তাঁদের বিপক্ষ ছিল বারাসাতের যুবক সংঘ৷ এদিনের খেলার ফলাফল ছিল বাঁকুড়ার টিমের পক্ষে ৪-১। এরই মাঝে রীতিমতো নির্দেশ দিয়ে বা ভোক্যাল টনিকে উজ্জীবিত করার ফাঁকে সাইডলাইনে যথেষ্ট উত্তেজিত ও দেখালো মা ভারতী কে। উৎসাহ, হতাশা সবকিছু সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যাচ্ছিল। প্রায়শই চিয়ার আপ করতে দেখা গেল মেন্টর কাম কোচ ভারতীকে।

আরও পড়ুন : মমতাই আদর্শ প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী; মত বিজেপি সাংসদের

খেলার শেষে তাঁর মেয়েদের সাফল্যের রসায়ন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানালেন টিমে চান্স পাওয়ার ক্ষেত্রে ক্রাইটেরিয়া কি। ভারতী জানালেন শুধুই পারফরমেন্স। আর মেয়েরা যে খেলতে গিয়ে ভুলচুক করলে মাঠের বকাঝকার কোটা শেষ করে বাড়িতেও বকা খেতে পারে, তাও সহাস্যে জানাতে ভুল করল না।

সবমিলিয়ে সোমবারের বারাসাত মাঠ হয়ে থাকল মহিলা ফুটবল লিগের খেলাকে ঘিরে বেঁচে থাকা এক ফুটবল নিবেদিত পরিবারের একটুকরো কোলাজ৷