স্টাফ রিপোর্টার : মুখ্যমন্ত্রী পথে নামার পরই উত্তর শহরতলিতেও ‘এনআরসি-সিএএ’এর বিরোধিতায় পথে নামল শাসক দল। মুখ্যমন্ত্রীর মহানগরে শান্তিপূর্ণ মিছিলের পাশাপাশি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল চলল বারাসত-মধ্যমগ্রামেও। সোমবার বারাসত থেকে মধ্যমগ্রাম পর্যন্ত এনআরসি ও সিএএ’এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে উত্তর ২৪ পরগণা জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিনের মিছিলের সাধারণ মানুষ, কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও।

সোমবার এই মিছিল শুরু হয়, দুপুর ৩’টে নাগাদ। বারাসতের হেলাবটতলা এলাকা সংলগ্ন মিলনী ময়দান থেকে। এবং মিছিল শেষ হয় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে বারাসতের ডাকবাংলো মোড়ে। এদিনের মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, দলের সভাপতি তথা খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ, নারায়ণ গোস্বামী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বারাসতের পৌর প্রধান সুনীল মুখোপাধ্যায়, উপ পৌরপ্রধান অশনী মুখোপাধ্যায় প্রমুখ ব্যক্তিত্ব।

এছাড়াও মধ্যমগ্রামের দিক থেকে আসা তৃণমূলের আরেকটি মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিধায়ক রথিন ঘোষ, উপস্থিত ছিলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। পাশাপাশি এদিন ডাকবাংলো মোড়ের কাছে পূর্বাচলের মাঠে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং এনআরসি’র বিরোধিতায় সভা করে শাসকদল।

এদিনের ওই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তার বিরুদ্ধে বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের আনা অভিযোগ সম্পর্কে বলেন,”শান্তনু ঠাকুর এখন মতুয়া মহা সংঘের সঘোষিত নেতা হয়ে গিয়েছে। শান্তনু ঠাকুরের শুধু মনে হচ্ছে এই ‘সিএএ’ আইনে মতুয়াদের উপকার হবে। কিন্তু, বাকি মতুয়া দের তা মনে হচ্ছে না। বিজেপি আজকাল আমাকে ভয় পায়, তাই আমাকে স্বপ্নে দেখছে আর ভুত দেখার মত আত্মকে উঠছে তাই রাজ্যে যেখানে যা গণ্ডগোল হচ্ছে তার জন্য আমাকে দায়ি করছে ওরা। আর মতুয়া মহা সংঘের সংঘাধিপাতি মমতা ঠাকুরের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও বিরোধ বা কোনরকম দূরত্ব তৈরি হয়নি। উনি সি এ এ আইন সমর্থন করেন না সেটা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। মমতা ঠাকুর ওই বিল টি ভালো করে পড়ে দেখেছেন যে এতে মতুয়াদের নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে না তাই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছেন সেটা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়ে দিয়েছেন।”

এদিনের সভায় রাজ্যপাল প্রসঙ্গেও বেশ কড়া মন্তব্য শোনা যায় খাদ্যমন্ত্রীর ভাষণে। এদিন রাজ্যপাল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি জানান, “রাজ্য পালের মাথা ঠাণ্ডা করা উচিত। রাজ্যপালের চিকিৎসার দরকার আছে। রাজ্যপাল রাজ্য সরকারেরর বিরুদ্ধে যা করছেন সেটা তার
এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ। আর তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যা বলছেন সেটা ঠিক বলছেন না। তার কথা রাজ্যের মানুষের মধ্যে আরও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। রাজ্যপাল ভুল কথা বলছেন।” ফলে রাজ্যের মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছে৷