প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগণার উত্তর বারাকপুর পুরসভা এলাকায় করোনায় আক্রান্ত হলেন আরও ১ যুবক। সে পরিযায়ী শ্রমিক বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি সে দিল্লি থেকে বারাকপুরে তার বাড়িতে ফিরেছিল। তাকে ইতিমধ্যেই বারাকপুরের বেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পরিবারের এক সদস্য সেনা বাহিনীতে কর্মরত হওয়ায় সে বারাকপুরের এস এন ব্যানার্জি রোডের বেস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

করোনা আক্রান্ত ওই পরিযায়ী শ্রমিক দিল্লীর এক বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। লক ডাউনে দীর্ঘদিন আটকে ছিলেন। সম্প্রতি বাড়ি ফিরেই জ্বরে আক্রান্ত হন ওই যুবক। এরপরই তাকে বারাকপুরের বেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার লালা রসের নমুনা পরীক্ষা করা হলে তার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। জানা গিয়েছে, করোনা আক্রান্ত ওই যুবক সম্প্রতি দিল্লি থেকে বারাকপুরের বাড়িতে ফিরে ছিলেন।

তিনি দিল্লিতে এক বেসরকারি কম্পিউটার সংস্থায় হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের কাজ করতেন। লক ডাউন চলাকালীন ওই বেসরকারি সংস্থা বন্ধ হয়ে যায়। সেই কারনে ওই যুবক রাজ্যে ফিরে আসে। গত তিনদিন ধরে জ্বরে ভুগছিল উত্তর বারাকপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আজাদ নগর শান্তশ্রী পল্লীর বাসিন্দা ওই যুবক। এরপর তার পরিবারের সদস্যরা তাকে বারাকপুর বেস হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে তার করোনা পরীক্ষার জন্য লালা রসের নমুনা নেওয়া হয়।

সোমবার রাতে বারাকপুর বেস হাসপাতালে ওই যুবকের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপরই নড়েচড়ে বসে উত্তর বারাকপুর পুরসভা কতৃপক্ষ। ওই যুবকের বাড়ি সংলগ্ন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তশ্রী পল্লী এলাকাটিকে প্রশাসন মঙ্গলবার সকালে কোয়ারেন্টাইন জোন ঘোষণা করেছে । ওই এলাকার বাসিন্দাদের সম্পূর্ণ গৃহবন্দী থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এদিকে মঙ্গলবার সকালে আক্রান্ত যুবকের বাড়ি সংলগ্ন আজাদ নগর শান্তশ্রীপল্লী এলাকাটি স্যানিটাইজ করে দিয়েছে উত্তর বারাকপুর পুরসভা।

উত্তর বারাকপুর পুরসভার পৌর প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “আক্রান্ত যুবকের পরিবারের এক সদস্য ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত। সেই সূত্রে তিনি বারাকপুর বেস হাসপাতালে ভর্তি হন। আমরা পুরসভাগত ভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে আছি। এই এলাকায় সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আমরা মানুষের পাশে থেকে সব রকম সাহায্য করব। দুজন “পরান বন্ধু” এই এলাকায় কাজ করছে। যাদের ফোন করলে দ্রুত করোনা আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে তারা ।

গোটা এলাকা জীবানুমুক্ত করা হয়েছে । আমাদের আশা এই যুবক দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসবে । আমরা করোনা মুক্ত বাংলা গড়ব ।”

এদিকে এই ঘটনায় আতঙ্কিত উত্তর বারাকপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দারা । যদিও উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার পক্ষ থেকে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সতর্ক ও সচেতন থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে ।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প