শ্রীনগর: কাশ্মীরে জামাত-ই-ইসলামিকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে এবার মুখ খুললেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি৷ পিডিপি হেডকোয়ার্টার থেকে সাংবাদিকদের মেহবুবা জানান, ‘উপত্যকায় জামাত-ই-ইসলামির বেশ কয়েকজন সদস্য গ্রেফতারের পর অবস্থা বেশ উত্তপ্ত৷ এটা একটা মতাদর্শ, গ্রেফতার করে একটা মতাদর্শকে চেপে রাখা যায় না৷ আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি৷’

নিউজ-18-এর খবর অনুযায়ী জানা যায়, ‘গণপিটুনিতে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে কাশ্মীরে দরিদ্রদের যারা সাহায্য করছে তেমন একটি সামাজিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে৷ শিবসেনা, জনসঙ্ঘ, আরএসএস মানুষকে মারছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না৷ কিন্তু কাশ্মীরে যে সংগঠন গরীবদের সাহায্য করছে, স্কুল চালাতে সাহায্য করছে তাদের ধরে জেলে ঢোকানো হচ্ছে৷ আমরা এই বিষয়কে কখনোই অনুমতি দেব না৷ এর ফলাফল মারাত্মক হতে পারে, ‘ বলেন মুফতি৷

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর, পিডিপি নেতা আরও জানিয়েছেন, ‘এইভাবে কোনও মতাদর্শকে বন্দি করা যায় না৷ এটা গণতান্ত্রিক দেশ৷ একানে মতাদর্শের মধ্যে মতানৈক্য থাকবে৷ বিজেপিকে এটা করতে দেওয়া যাবে না, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাদের থামানোর কেউ নেই৷ যখন কোনও কাশ্মীরিকে পেটানো হচ্ছে, তখন অনেকে খুশি হচ্ছে৷ … এদের স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হলে মেধাবী পড়ুয়ারা কোথায় যাবে? কেন্দ্র আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে খেলছে৷ তাদের উচিত সেই সব সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা, যারা তরোয়াল নিয়ে ঘোরে৷’

প্রসঙ্গত, আগেই পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে জামাত-ই-ইসলামি সংগঠনের জম্মু ও কাশ্মীর শাখাকে। এরপর শুরু হয় তল্লাশি। এই সংগঠনের টাকাতেই হিজবুল মুজাহিদিন চালানো হয় বলে অনুমান গোয়েন্দাদের।
শনিবার সকালের মধ্যেই জামাত-ই-ইসলামির (কাশ্মীর) কার্যকলাপ চলত এমন ৭০টি জায়গা সিল করে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে এই সংগঠনের অন্তত ৫২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়তে এবার জম্মু ও কাশ্মীরের বেশ কয়েকজন জামাত-ই-ইসলামি নেতাকে হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বেআইনি কার্যকলাপ সংক্রান্ত আইনের আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কাশ্মীরের আর কোথায় কোথায় ওইসব নেতাদের সম্পত্তি আছে, সেগুলি চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারত-পাক সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর থেকেই এই সংগঠনের উপর জোরদার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়৷