ঢাকা: ভাবগম্ভীর পরিবেশে বাংলাদেশ সরকার জাতীয় শোক দিবস পালন করছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট রাতে সপরিবারে খুন করা হয়েছিল বাংলাদেশের স্থপতি তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সেদিন মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

সেনাবাহিনীর একাংশ সেই অভ্যুত্থানে জড়িত ছিল। সেদিন জার্মানিতে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তথা মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা।

চার দশক পার হতে চলল বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য ফেলে দেওয়া সেই গণহত্যার। অথচ বঙ্গবন্ধু খুনের বেশ কয়েকজন আসামী এখনও ফেরার। কয়েকজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা মূল অপরাধী বলে চিহ্নিত তাদের ফিরিয়ে এনে বিচারের প্রক্রিয়া এখনও অসম্পূর্ণ।

বঙ্গবন্ধু খুনের বর্ষপূর্তিতে ঢাকা সহ বাংলাদেশের সর্বত্র পালিত হচ্ছে শোক দিবস। ঢাকায় ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে, যেখানে বঙ্গবন্ধুকে খুন করা হয় সেই বাড়ি ও বিভিন্ন এলাকায় জারি হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। নাশকতার আশঙ্কা থাকছেই। এর জন্য ব়্যাব, পুলিশ, জঙ্গি দমন শাখা সতর্ক। কাতারে কাতারে মানুষ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে। রাষ্ট্রপ্রতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হওয়ার পর একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রী, পেশাজীবী ও সর্বসাধারণ।

১৯৭১ সালে প্রবল রক্তাক্ত সংঘর্ষের পর পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। সেই মুক্তিযুদ্ধের প্রধান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতা অর্জনের চার বছরের মাথায় তাঁর বিরুদ্ধে একনয়াকতন্ত্র কায়েমের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। এরপর সেনাবাহিনির একাংশ শুরু করে ষড়যন্ত্র। অভিযোগ, এতে মদত দেয় পাকিস্তান।