তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: প্রকাশিত হল পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে প্রথম দশে বাঁকুড়া জেলার বেশ কয়েক জন ছাত্র, ছাত্রী স্থান অধিকার করেছে।

সুদীপ্তা ধবল। বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাই স্কুলের এই কৃতি ছাত্রী এবার মাধ্যমিকে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৫৮৬। সুদীপ্তার বাবা প্রদীপ কুমার ধবল পিএইচই ও পিডব্লুডি-র ঠিকাদার। মা সর্বাণী ধবল গৃহবধূ। দাদা সুপ্রভ ধবল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন বিষয়ে চেন্নাইতে পাঠরত। পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ ও গানে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে এই কৃতি ছাত্রীর। তবে ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে সুদীপ্তা।

অষ্টম স্থান অধিকার করেছে আরও একজন। বাঁকুড়া বিবেকানন্দ শিক্ষা নিকেতনের কৌশিক সাঁতরা। শহরের সাহানা পল্লীর বাসিন্দা ক্রিকেটের অন্ধ ভক্ত কৌশিক বড় হয়ে অ্যাস্ট্রোনোমার হতে চায়। সে ৬৮০ নাম্বার পাবে আশা করেছিল তবে মেধা তালিকায় আসবে ভাবেনি বলেই জানায়। বাড়ি, স্কুলে নিয়ম করে পড়ার পাশাপাশি তার দশটি বিষয়ে গৃহশিক্ষক ছিলেন।

বাঁকুড়া জেলা স্কুলের সায়ন্তন দত্ত-ও ৬৮৩ পেয়ে মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান অধিকার করেছে। শহরের সার্কাস ময়দানের বাসিন্দা সায়ন্তনের বাবা শুভেন্দু দত্ত একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। মা গৃহবধূ।

বাঁকুড়া বিবেকানন্দ শিক্ষা নিকেতনের অর্কপ্রভ সাহানাও অষ্টম স্থান অধিকার করেছে। ক্রিকেট অন্যতম প্রিয় বিষয়। ছ’টি বিষয়ে গৃহশিক্ষক ছিলেন। সে ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায় বলেই জানিয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সমানে খেলাধুলা করেছে সে। ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষক সঞ্জীব বটব্যাল ছুটে গিয়েছেন প্রিয় ছাত্রের বাড়িতে। তিনি একাধারে খুশি অন্যদিকে গর্বিত বলে জানান।

সৌগত পণ্ডা। বাঁকুড়া জেলা স্কুলের এই কৃতি ছাত্র এবার রাজ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষায় নবম স্থান অধিকার করেছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮২। এই কৃতী ছাত্র জানিয়েছে, যখন ইচ্ছে হতো তখনই পড়তাম। তবে পরীক্ষার আগের চার মাস পুরো রুটিন ধরে পড়াশোনা করেছি। যেকোনো খবরের প্রতি ভীষণ আগ্রহী সৌগত৷ সেই খবর বিশ্লেষণ করতে ভালোবাসে। খেলাধুলা সেভাবে করা না হয়ে উঠলেও বিষয়টাতে আগ্রহ আছে। এছাড়াও পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে গল্পের বই পড়তে ভালো লাগে তার। এই ফলাফলে সে ভীষণ খুশি। তবে বাবা, মায়ের পাশাপাশি জেলা স্কুলের শিক্ষক ও গৃহশিক্ষকদের ভূমিকাকে সে কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করেছে। বাঁকুড়া শহরের জুনবেদিয়ার বাসিন্দা বাবা বিনয় কুমার পণ্ডা রাজ্য এগ্রিকালচার বিভাগের কর্মচারী।

রাজ্যে মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় দশম স্থান অধিকার করেছে বাঁকুড়ার রামকৃষ্ণ মিশন সারদা বিদ্যাপীঠের ছাত্র সৌধ হাজরা। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮১। বাবা শ্রীধর হাজরা একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। মা গৃহবধূ। সৌধের প্রিয় বিষয় অঙ্ক। ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে আছে। এই সাফল্যে সে তার বাবা, মায়ের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষক ও মহারাজদের প্রতি কৃতজ্ঞ। নবম শ্রেণী পর্যন্ত নিয়মিত খেলাধুলা করলেও দশম শ্রেণীতে সে সুযোগ হয়নি। তাছাড়া গল্পের বই পড়তে ভালোবাসে। আগামী দিনের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা, পাঠ্য পুস্তক ঠিক ঠাক পড়লে সাফল্য আসবেই। বাবা শ্রীধর হাজরা বলেন, নিজের মতো করে সৌধ পড়াশোনা করেছে। আমাদের কোন ধরণের চাপ ছিল না। ছেলে সাফল্যে খুশি বাবা, মা ফলাফল ঘোষণার পর কেঁদে ফেলেছিলেন বলে তিনি জানান।

দশম স্থান অধিকার করেছে বাঁকুড়া বিবেকানন্দ শিক্ষা নিকেতনের রিমা চৌধুরী। তারও প্রাপ্ত নম্বর ৬৮১। ন’জন গৃহশিক্ষক ছিলেন। দিনে কখনও সেভাবে পড়াশোনা করতো না সে৷ তবে রাত জেগে সে পড়াশোনা করেছে বলে জানায় রিমা৷ স্কুলের শিক্ষকদের পাশাপাশি বাবা খুব সাহায্য করেছেন বলে জানায় সে।