তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: মাত্র দু’নম্বর! এই দু’নম্বরের জন্য হতে পারতো অনেক কিছুই। আর দু’নম্বর পেলে এবার মাধ্যমিকের প্রথম দশের মেধাতালিকায় নাম থাকত বাঁকুড়ার ইন্দপুর গোয়েঙ্কা হাই স্কুলের ছাত্র রাজদীপ মাজির।

একই সঙ্গে দু’নম্বরের সৌজন্যে তাঁর স্কুলের নাম যেমন উজ্জ্বল হত৷ তেমনই জেলায় মেধা তালিকায় থাকা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ১০ থেকে ১১ হতো। যেখানে এবার মাধ্যমিকে দশম স্থানাধিকারীদের প্রাপ্ত নম্বর ৬৮১, সেখানে জয়দীপ পেয়েছে ৬৭৯। কিন্তু মাত্র এই দু’নম্বরের চক্করে পড়ে সেসব কিছুই হল না।

ইন্দপুর গোয়েঙ্কা হাই স্কুলের ছাত্র রাজদীপ মাজি৷ ছোটো থেকেই যথেষ্ট মেধাবী ছিল৷ স্কুলের কোন পরীক্ষায় সে দ্বিতীয় হয়নি। টেস্ট পরীক্ষাতে তার প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৬৬৫। সব মিলিয়ে সে নিজে, বাবা-মা, পাড়া, প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজন থেকে শিক্ষক শিক্ষিকা সবার অনেক আশা ছিল তাকে নিয়ে।

বাবা ফটিক চন্দ্র মাজি একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক, মা ঝর্ণা মাজি সরকারি নার্স। পড়াশোনার পাশাপাশি গান, খেলাধুলা ও ছবি আঁকতে ভালোবাসে সে। তার শিল্পকর্মের নমুনা বাড়ির দেওয়াল জুড়ে। শ্যালক হোমসের রহস্য উপন্যাসের ভক্ত রাজদীপ প্রতিদিন নিয়ম করে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছে।

ভবিষ্যতে সে ডাক্তার হতে চায়। তার গ্রামীণ অসহায় প্রান্তিক মানুষদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াই তার অন্যতম মূল লক্ষ্য, এমনটাই জানিয়েছে জয়দীপ। মাধ্যমিকের প্রথম দশে স্থান না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে এই কৃতী ছাত্র বলেন, আপসোস তো হচ্ছেই। এই সাফল্য তার বাবা, মায়ের পাশাপাশি স্কুল ও গৃহশিক্ষকদের অকুণ্ঠ সহযোগিতায় সম্ভব হয়েছে বলে জানায় সে।