তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: এক সময়ের ‘আশীর্বাদ’ এভাবে ‘অভিশাপ’ হয়ে দাঁড়াবে ভাবতে পারেননি বাঁকুড়ার গঙ্গালজলঘাটির নিত্যানন্দপুর এলাকার মানুষ।

ডিভিসির দূর্লভপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরীর সময়কালে আশার আলো দেখেছিলেন মানুষ। সব কিছুই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু মূলত কৃষি নির্ভর এই এলাকার মানুষের কাছে বিভিষীকা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিভিসির এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এখানকার ছাই যুক্ত পরিত্যক্ত জল এলাকার চাষযোগ্য জমিকে করে তুলছে অনাবাদি। এমনকি ডিভিসির ওই ছাইয়ের সৌজন্যে নিত্যানন্দপুরের ড্যাম বুজে যেতে বসেছে।

আর সেচ দফতরের সৌজন্যে ওই ড্যামের জল এক সময় এলাকার বিঘার পর জমিকে চাষযোগ্য করে তুলেছিল। বিষয়টি বার বার ডিভিসি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা কার্তিক কর্মকার, কার্তিক মণ্ডল, শম্ভু কর্মকাররা বলেন, প্রায় কুড়ি বছর ধরে ডিভিসির ছাই যুক্ত জলে সব চাষের জমি শেষ হতে বসেছে। এমনকি ডিভিসির ছাই বাতাসে উড়ে এসে বাড়ির ভিতর পর্যন্ত ঢুকে যাচ্ছে। একবার নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়ে ডিভিসি দায় সেরেছে দাবি করে তারা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবিকে সমর্থণ জানিয়েছেন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তারাশঙ্কর মণ্ডল। তিনি বলেন, সেচ দফতরের ড্যাম আজ ডিভিসির ছাই আর কচুরীপানায় ভর্তি। সেচের জলের পাশাপাশি মাছ চাষ করেও অনেকে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সেই সুযোগ বন্ধের মুখে বলে তিনি জিনিয়েছেন।

স্থানীয় বিধায়ক স্বপন বাউরী ডিভিসি কর্তৃপক্ষের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ওরা নিজেদের টুকু দেখে নিচ্ছেন। মানুষের কথা ভাবেননি। নিত্যানন্দপুর ড্যাম সহ অসংখ্য কৃষি জমি ডিভিসির ছাইয়ে নষ্ট হতে বসেছে। কেউ ক্ষতিপূরণ পাননি। বিষয়টি নিয়ে ডিভিসি কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও কোনও কাজের কাজ হয়নি বলে তার দাবি।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ