তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বর্ষ বরণের আনন্দে মেতে উঠলেন বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড় কোলের শিউলীবনা গ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষও। নিজেদের সংস্কৃতির সঙ্গে সাযুয্য রেখে সোমবার থেকেই এই গ্রামে শুরু হয়ে গেছে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। যোগ দিয়েছেন শুশুনিয়া পাহাড়ে আসা পর্যটকরাও।

পুরোনকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর রীতি দীর্ঘদিনের। এখন ‘নিউ ইয়ারে’র রাতে উৎসবে মেতে ওঠেন আমবাঙালিও৷ আর সেই আনন্দ উৎসবে নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরতে গত ২৪ বছর ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে বর্ষ বিদায় ও বর্ষ বরণের অনুষ্ঠান হয়ে আসছে আদিবাসী এই গ্রামে।

৩১ ডিসেম্বরের শেষ বিকেলে পাহাড়ের পশ্চিম কোলে যখন বছরের শেষ সূর্য অস্তাচলে, ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণে খোলা আকাশের নিচে ধামসা-মাদলের বোল আর মহিলাদের মেঠো গানের সুরে এখানে শুরু হয়ে যায় উৎসব। তারপর সারা রাত ধরে চলতে থাকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের ছন্দোবদ্ধ নাচ আর গান। এভাবে পুরোন বছরকে বিদায় দিতে দিতেই নতুন বছরকে আলো করে পূব আকাশে দেখা যায় লাল সূর্য। এভাবেই বছরের প্রথম দিনেও চলতে থাকে আদিবাসী সংস্কৃতির মাধ্যমে নতুনকে স্বাগত জানানো।

শুধু স্থানীয় বাসিন্দা নন, দূর দূরান্তের সংস্কৃতি প্রেমী পর্যটকরাও বছরের এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। শীতের রাত উপেক্ষা করেই এখানে মানুষ জড়ো হন বছরের এই বিশেষ দিনে। এখন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের এই বর্ষবরণের অনুষ্ঠান এতোটাই জনপ্রিয় খবর পেয়েই দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এখন এখানে ছুটে আসছেন।

গ্রামবাসী সুস্মিতা হাঁসদা বলেন, কর্মসূত্রে আমরা যে যেখানেই থাকিনা কেন এই দিনটাতে গ্রামে পৌঁছে যাই। আমার ব্যক্তিগতভাবে খুব ভালো লাগে। এই অনুষ্ঠানেই সারা বছর যাদের সাথে দেখা হয়না, তাদের সাথে দেখা হয়। এই অনুষ্ঠানকে মিলন মেলা বলতে পারেন। তিনি আরো বলেন, আধুনিক নগর সভ্যতার চাপে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে। বছরের শেষ ও শুরুতে এই অনুষ্ঠান আমাদের সংস্কৃতিমনস্ক করে তুলতে সাহায্য করে বলে তিনি জানান।

আদিবাসী সম্প্রদায়ের এই অনুষ্ঠান নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে শময়িতা মঠের ঋষিঋদ্ধা অনাহতারও। তিনি বলেন, এখানে বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে মূলত আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষই অংশগ্রহণ করেন। তবে এখন দিনে দিনে এই অনুষ্ঠানের ব্যপ্তি অনেক বড় হয়েছে। অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে মাটির কথা, মানুষের কথা, প্রকৃতির কথাই এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বলা হয় বলে তিনি জানান।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।