ফাইল ছবি

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া : আগামী ২৯ নভেম্বর বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জেলায় আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য্য তথা রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি। বাঁকুড়া রবীন্দ্র ভবনে হতে চলা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের।

সেই প্রথম সমাবর্তনের আমন্ত্রণপত্র ঘিরে জেলাজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হল। ঐ চিঠিতে প্রকাশিত শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামের আপত্তিকর উচ্চারণ ঘিরে শিক্ষামহলে ব্যাপক ঝড় উঠেছে। এখন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়াতে রীতিমতো ‘ভাইরাল’ সেই বিতর্কিত আমন্ত্রণপত্র।

কয়েকজন বিশিষ্টের কাছে সেই আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে গেলেও নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আমন্ত্রণপত্র বিলি স্থগিত রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে নতুন আমন্ত্রণ পত্র ছাপানো শেষে বিলির কাজ শুরু হয়েছে।

কিন্তু বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি দায়িত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে। কার ভুলে এই ধরণের অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটল সে নিয়ে তদন্তের দাবিও উঠতে শুরু করেছে।

‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ স্তরের এই ধরণের ভুল নিন্দাজনক’ দাবি করে অধ্যাপক সাধন পাত্র বলেন, ঐ ভুল বানানের চিঠি তিনিও পেয়েছেন। যাঁরা এই দায়িত্বে দায় তাঁদেরই নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। বাঁকুড়া বিশ্ব বিদ্যালয় উৎকর্ষতার চরম শিখরে উঠুক আশা নিয়েই অধ্যাপক সাধন পাত্র আরো বলেন, প্রেস, প্রুফ রিডার যাঁর ভুলেই এই ঘটনা ঘটনা ঘটুক ভুল হয়েছে এটা আমাদের মানতেই হবে। সেই ভুল প্রকাশ্যে আসার পর কিভাবে ভুল চিঠি বিলির কাজ শুরু হলো তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

এবিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দেবনারায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি নতুনভাবে ছাপানো চিঠি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপিত করেন। ‘প্রুফ রিডিং’ এ কোন ভুল ছিলনা দাবি করে তিনি বলেন, যে মুহূর্তে এই ভুল আমাদের নজরে এসেছে তৎক্ষনাৎ চিঠি বিলির কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। নতুন চিঠি ছাপিয়ে বিলি করা হয়েছে।

এত বড় ‘ভুল’-এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কি তার দায় এড়াতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে উপাচার্য বলেন, বিষয়টি আগামী ‘এক্সিকিউটিভ মিটিং’এ উঠবে। সেখানেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই মুহুর্তে যাই বলুন, সোশ্যাল মিডিয়াতে এখনও এই বিতর্ক জারি আছে। কমেন্ট বক্সে একের পর তির্যক মন্তব্য কিন্তু ভেসেই আসছে। এখন সব বিতর্ক ঝেড়ে বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে জেলার শিক্ষামহল।