তিমিরকান্তি পতি (বাঁকুড়া);  লোকসভা ভোটে বিপুল পরাজয়ের পর এবার বাঁকুড়া পুরসভা নিজেদের দখলে রাখতে উঠে পড়ে লাগলো বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল। বৃহস্পতিবার দলের বাঁকুড়া জেলা সাংগঠনিক সভাপতি শুভাশীষ বটব্যালের নেতৃত্বে শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার লালবাজারে পথ চলতি মানুষকে মিষ্টি বিতরণ করলেন কর্মী সমর্থকরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া কেন্দ্রটি শাসক দলের হাতছাড়া হয়। এখানে সেই সময় তৃণমূল থেকে বেরিয়ে এসে পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শম্পা দরিপা বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী হিসেবে জেতেন। যদিও পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। পরে ২০১৯ এর লোকসভা ভোটেও ব্যাপক পরাজয় শাসক শিবিরের। তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী, রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জ্জীকে পরাজিত করে লোকসভায় যাওয়ার ছাড়পত্র আদায় করেন বিজেপির ডাঃ সুভাষ সরকার। লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে এই পৌরসভার প্রায় সব কটি আসনেই এগিয়ে বিজেপি। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে বেজায় অস্বস্তিতে তৃণমূল।

এদিন দলের তরফে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টি বিতরণ অনুষ্ঠানে দলের জেলা সভাপতি শুভাশীষ বটব্যাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইন্দাস বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক গুরুপদ মেটে সহ অন্যান্য নেতা কর্মীরা। তৃণমূল জেলা সভাপতি শুভাশীষ বটব্যাল এদিন উপস্থিত সাধারণ মানুষকে নিজের হাতে করে তাদের মুখে মিষ্টি তুলে দেন। এমন ছবিও ধরা পড়লো সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায়।

এবিষয়ে তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সাংগঠনিক সভাপতি শুভাশীষ বটব্যাল বলেন, সদ্য বিজয়া দশমী গেছে। বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জ্ঞাপন। আমরা সেই কাজটাই করছি। পুজোর ছুটি ছিল। সবাই এই ক’টা দিন ব্যস্ত ছিলেন। অফিস আদালত খুলেছে। ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে এই কর্মসূচী হলো, শহরের সবকটি ওয়ার্ডেই এই কর্মসূচী চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, এদিন দলের পক্ষ থেকে পথচলতি মানুষকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সকলকে মিষ্টি মুখ করালাম।

যদিও বিজেপির তরফে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে। সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, গত চার বছরে তৃণমূলের সভাপতিদের বিজয়ার শুভেচ্ছি ও মিষ্টি বিতরণ করতে দেখিনি। তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। সামনেই পৌরসভা নির্বাচন, তাই মিষ্টি বিতরণ করে হারানো জমি পূণরুদ্ধার করতে চাইছে তারা। সরকারী কাজে বৈষম্য ও কাটমানিতে পর্যূদস্ত শাসক দল মিষ্টি বিতরণ করেও লাভবান হবেনা বলেই তিনি দাবী করেন।