তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘টেরাকোটার গ্রাম’ হিসেবেই পরিচিত বাঁকুড়ার তালডাংরার পাঁচমুড়া। এখানকার মৃৎশিল্পীদের তৈরী দূর্গা প্রতিমা এর আগেও বেশ কয়েকবার কলকাতার পুজো মণ্ডপে জায়গা করে নিয়েছে। আর এবার পাঁচমুড়া থেকেই সরস্বতী প্রতিমা পাঠানো হল কলকাতায়।

বরাহনগরের একটি ক্লাবে দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে তালডাংরার টেরাকোটার সরস্বতী প্রতিমা। পাঁচমুড়ার মৃৎশিল্পী তাপস কুম্ভকারের তৈরি আট ফুট উচ্চতার টেরাকোটার সরস্বতী প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হল কলকাতায়। প্রতিমার পাশাপাশি এবার বরাহনগরের ওই ক্লাবের মণ্ডপসজ্জাতেও এবার নজর কাড়বে টেরাকোটার নানা শিল্প কর্ম।

বাঁকুড়ার তালডাংরার পাঁচমুড়া গ্রামের টেরাকোটা মৃ শিল্পের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। এলাকার একাধিক মৃৎশিল্পী তাঁদের নিপুণ হাতে তৈরি শিল্পকর্মের জন্য পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও। বছরের বিভিন্ন সময় দেশ বিদেশ থেকেও বহু পর্যটক আসেন বাঁকুড়ায়।

বাঁকুড়ার এখাধিক জায়গা ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি পর্যটকদের ঘোরার তালিকায় থাকে তালডাংরার এই ‘টেরাকোটার গ্রাম’। বহু পর্যটকই এখান থেকে টেরাকোটার তৈরি নানা মূর্তি, ঘর সাজাবার জিনিস কিনে নিয়ে যান। বিশেষত শীতকালে পর্যটকদের ঢল নামে টেরাকোটার গ্রামে। এরাজ্য তো বটেই ভিনরাজ্য এমনকী বিদেশ থেকেও বহু পর্যটক বেড়াতে যান বাঁকুড়ায়।

এখনও বিভিন্ন অনুষ্ঠান, গৃহসজ্জা ও মণ্ডপসজ্জায় বাঁকুড়ার টেরাকোটা শিল্পের বিপুল কদর রয়েছে। প্রতি বছরই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নানা পুজোয় দেখা মেলে বাঁকুড়া প্রাচীন এই শিল্পের। নিত্যনতুন মণ্ডপসজ্জার পাশাপাশি টেরাকোটার শিল্পে সাজানো মণ্ডপ দেখতে আজও উপচে পড়ে ভিড়।

প্রায় এক মাসের টানা পরিশ্রমের পর এই প্রথমবার তাঁর তৈরি প্রতিমা কলকাতার মণ্ডপে পাড়ি দেওয়ায় খুশি তালডাংরার তরুণ শিল্পী তাপস কুম্ভকার। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত টানা পরিশ্রম শেষে তৈরি করেছেন এই প্রতিমা।

নিজের এই কীর্তি সম্পর্কে শিল্পী তাপস কুম্ভকার জানান, দু’মাস আগে বরাহনগরের ওই ক্লাবের কর্মকর্তারা যোগাযোগ করেন তাঁর সঙ্গে। কথা পাকা হওয়ার পরই তিনি প্রতিমা তৈরির কাজে হাত লাগান। সরস্বতী প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি অর্ডার মিললে দুর্গা, কালী, বিশ্বকর্মা প্রতিমাও গড়তে প্রস্তুত তালডাংরার এই তরুণ শিল্পী।