প্রতীকী ছবি

তিমিরকান্তি পতি,বাঁকুড়া: ‘মন্দির নগরী’ হিসেবেই দেশ বিদেশে পরিচিত বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর। টেরাকোটার অপরুপ সৌন্দর্যমণ্ডিত সব প্রাচীণ মন্দিরের টানে রাজ্য, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও প্রচুর মানুষ ছুটে আসেন এক সময়ের মল্লরাজাদের এই রাজধানীতে।

করোনা সতর্কতায় দীর্ঘ লকডাউনে দেশী-বিদেশী সমস্ত পর্যটকদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ ছিল এখানে। মন্দির গুলিতে নিত্য পুজা পাঠ চালু থাকলেও সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ ছিল মন্দিরের দরজা। দীর্ঘ প্রতিক্ষা শেষে আনলক-২ পর্বে পৌঁছে চলতি সপ্তাহেই পুরাতত্ব বিভাগের নির্দেশানুষারে মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি মিলেছে। খুলে দেওয়া হয়েছে মন্দিরের তালা।

কিন্তু এবার থেকে আর চাইলেই মন্দির নগরীর প্রাচীণ এই মন্দির গুলিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। করোনা সংক্রমণ এড়াতে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষেই মিলবে সেই ছাড়পত্র। প্রতিটি মন্দিরের সামনে রাখা থাকছে স্যানিটাইজার। নিজেকে স্যানিটাইজ করার পর সামনে রাখা খাতায় নিজের নাম, ঠিকানা ও ফোন নাম্বার নথীভূক্ত করতে হবে।

তারপর উপস্থিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী আপনার থার্মাল স্ক্রিনিং এ শরীরের তাপমাত্রা মাপবেন। এতো সবের পরেই মিলবে মন্দিরে ঢোকার ছাড়পত্র। তবে মন্দিরের ভিতরে ঢুকেও সামাজিক দূরত্ব যাতে বজায় থাকে সেদিকেও কড়া নজর রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আপাতত মন্দিরের সামনে গ্রুপ ছবি তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে মুঠো ফোনে মন্দিরের ছবি ধরে রাখছেন কেউ কেউ।

দীর্ঘ লক ডাউনে বিষ্ণূপুরের পর্যটন ব্যবসা মুখ ধুবড়ে পড়েছিল। পর্যটকদের আনা গোনা বন্ধ থাকায় চরম সমস্যায় পড়েছিলেন এখানকার পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন থেকে ছোটো ব্যবসায়ীরা। প্রায় তিন মাসেরও বেশী কিছু সময় পর ছন্দে ফিরছে মন্দির নগরী। খুশি ব্যবসায়ীরাও।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সুমন দে, প্রদীপ পণ্ডিতরা বলেন, সরকারি ভাবে মন্দির খোলার পর পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। সেরকমভাবে না হলেও বিক্রি বাড়ছে। আগামী দিনে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে বলেই তাঁরা আশাবাদী।

মন্দিরের দরজা খুলে যাওয়ায় খুশি পর্যটকেরাও। প্রাচীণ সব মন্দির ঘুরে দেখার ফাঁকে বর্ধমানের শেহরাবাজার থেকে আসা গোপা মিদ্যা আমাদের ক্যামেরার মুখোমুখি হয়ে বলেন, দীর্ঘ লকডাউনে বাড়িতে থেকে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। মন্দির নগরীর মন্দিরের দরজা খোলা হয়েছে খবর পেয়েই তারা সপরিবারে এখানে এসেছেন বলে তিনি জানান।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ