তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: “ওঁ অগ্নিষ্মাতাঃ পিতরস্পৃপ্যন্তা মেতৎ উদকং তেভ্যঃ স্বধা। ওঁ সৌম্যাঃ পিতরস্পৃত্যন্তামেতৎ সতিলোকং গঙ্গোদকং তেভ্যং স্বধা। ওঁ হবিষ্যন্তঃ পিতর স্পৃত্যন্তামেতৎ সতিলোকং গঙ্গোদকং তেভ্যং স্বধা…”।

চলতি করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বৃহস্পতিবার পিতৃপক্ষের অবসানে দেবী পক্ষের সূচনায় মহালয়ার পুণ্য সকালে এমনই সব বৈদিক মন্ত্রে মুখরিত হল বাঁকুড়ার আকাশ বাতাস। এদিন সকালের সূর্য ওঠার আগে থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ স্থানীয় নদীগুলিতে প্রয়াত পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণে অংশ নিলেন। সব থেকে বেশি ভিড় দেখা যায় বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন গন্ধেশ্বরী নদীতে।

মহালয়ার ভোর থেকেই তর্পণের উদ্দেশ্যে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন এখানে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গন্ধেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর সহ জেলার বিভিন্ন নদী ঘাটগুলিতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।

নিয়মানুযায়ী এদিন পিতৃতর্পণের মধ্যে দিয়েই বাঙালির মাতৃআরাধণার সূচনা হওয়ার কথা৷ কিন্তু এবার পঞ্জিকা মতে আশ্বিনে দু’টি অমাবস্যা পড়ায় এই মাস ‘মল মাস’ বা ‘অধি মাস’ হিসেবে চিহ্নিত। ফলে কোন শুভ কাজ করা শাস্ত্রমতে নিষিদ্ধ। ফলে শারদোৎসবের জন্য আরো একটি মাসের অপেক্ষা।

অন্যান্যবারের থেকে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। সেকারণেই প্রয়াত পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণের পাশাপাশি বর্তমান করোনা পরিস্থিতি থেকে বিশ্ববাসীর মুক্তির প্রার্থণা জানালেন তর্পণে অংশ নেওয়া মানুষ থেকে পুরোহিত সকলেই।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।