তিমিরকান্তি পতি(বাঁকুড়া): কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোয় অভিনব উদ্যোগ বাঁকুড়া শহরের একটি বেসরকারী অঙ্কন শিক্ষা বিদ্যালয়ের। রবিবার শহরের রবীন্দ্র সরণী এলাকায় ডাঃ অনাথ বন্ধু রায় স্মৃতি উদ্যানে শিশুদের নিয়ে হয়ে গেল ‘লক্ষ্মী সাজো’ প্রতিযোগিতা। অভিনব এই আয়োজনে খুশি ক্ষুদে লক্ষ্মী থেকে তাদের অভিভাবকেরাও।

এদিন সকাল থেকে শিশুদের একেবারে লক্ষ্মী প্রতিমার মতো সাজিয়ে হাজির হয়ে যান অভিভাবকেরা। সুন্দর পরিপাটি করে সাজানোর পাশাপাশি হাতে এক হাতে পদ্ম ফুল, ধানের ছড়া অন্য হাতে লক্ষ্মী ভাঁড় এমনকি বাহন পেঁচা সহ আয়োজনে বাদ যায়নি কিছুই। এদিন এই প্রতিযোগীতায় প্রথম ও তৃতীয় স্থানাধিকারিনী দেবারতী চ্যাটার্জ্জী, প্রিয়া পালরা লক্ষী সাজো প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে পেরে বেশ ভালো লাগছে জানিয়ে বলেন, সাজ পোষাক ও বিভিন্ন প্রশ্নের সঠিক উত্তরের মাধ্যমে বিচারকরা সফল প্রতিযোগীদের বেছে নিয়েছেন।

এই প্রতিযোগিতা ঘিরে অভিভাবক মহলেও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। নিজের মেয়েকে উপস্থিত সঙ্গীতা দত্ত বলেন, সন্ধ্যেয়তো বাড়িতে লক্ষী পুজো হবেই। তার আগে অনেক ছোটো ছোটো লক্ষ্মীদের সঙ্গে সময়টা বেশ ভালোই কাটলো। আগামী দিনে এই ধরণের আয়োজনে তারা সাহায্য করবেন বলেও তিনি জানান।

আয়োজকদের পক্ষে শিক্ষক সুখময় দাস বলেন, প্রতিটি মেয়েই এক একজন লক্ষী। আর প্রতি বাড়িতেই মেয়ে রুপী লক্ষী রয়েছেন। তিনি জানান, এদিন প্রথমবার এই আয়োজনে খুব ভালো সাড়া মিলেছে।

সদ্য শেষ হয়েছে দুর্গা পুজো। মায়ের কৈলাশে গমন ঘিরে বিজয়া দশমীর পর থেকেই ভারাক্রান্ত বাঙালির মন। তবে দুর্গা পুজোর রেশ কাটতে না কাটতে শুরু হয়ে গিয়েছে ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন। সারা বাংলার মানুষের পাশাপাশি লক্ষ্মী আরাধনায় মেতেছে বাংলার টেলি-তারকারাও। পুরাণ মতে মা লক্ষ্মী হল ধনসম্পদের দেবী। তাইতো ঘরে ঘরে লক্ষ্মী বন্দনা করলে যাবতীয় দুঃখ কষ্ট নাকি দূর হয়ে যায়। আর তাইতো মায়ের কৃপা লাভ করতে শহর থেকে শুরু করে গ্রাম বাংলা জুড়ে যে যার নিজের সাধ্যমত করে মেতেছে লক্ষ্মী দেবীর আরাধনায়।