তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: রাস্তার দুপাশে গজিয়ে উঠেছে অগুণতি আগাছা, তাও আবার বিষাক্ত৷ এই বিষাক্ত আগাছার নাম পার্থেনিয়াম৷ উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, বিষাক্ত এই পার্থেনিয়ামের মূল উৎপত্তি স্থল মেক্সিকো। পরবর্ত্তী সময়ে সেখান থেকে বিষাক্ত এই আগাছা বিভিন্ন দেশ ঘুরে আমাদের দেশেও ঢুকে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাড়ে তিন লিটার জলে এক কেজি লবন মিশিয়ে পার্থেনিয়াম গাছে স্প্রে করলে তিন দিনের মধ্যে ঐ গাছ শুকিয়ে পড়বে ও একই সাথে বিষাক্ত জীবানু ধ্বংস হয়ে যাবে।

রবিবার, পাড়ার পার্থেনিয়াম ধ্বংস করার দিন। এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিষাক্ত এই ‘গাছ মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে’ এদিন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে বাঁকুড়ার সারেঙ্গায় পার্থেনিয়াম নিধন কর্মসূচি পালিত হয়৷ ওই সংস্থার সদস্যরা সারেঙ্গা এলাকার বিভিন্ন রাস্তার দু’ধারে ও জমির পাশে গত কয়েক বছরে অবাধে গজিয়ে ওঠা এই বিষাক্ত গাছ ধ্বংসে উদ্যোগী হন।

পার্থেনিয়ামের বিজ্ঞানসম্মত নাম Parthenium Hysterophorus৷ এই পার্থেনিয়ামে রয়েছে Sesquiterpene Lactone নামে বিষ। যা মানুষ, পশু পাখি থেকে শুরু করে কৃষি জমিতেও ব্যাপকভাবে ক্ষতি করে। এই পার্থেনিয়ামের রেণু অতি সূক্ষ্ম হওয়ায় এটি সহজেই বায়ু মণ্ডলে ভেসে থাকতে পারে। মানুষ এই রেণুর সংস্পর্শে এলে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিসের মতো রোগের পাশাপাশি চামড়ার রোগের আক্রমণের সম্ভাবনা বহুগুন বেড়ে যায় বলেই চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এদিন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে পার্থেনিয়াম গাছের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা হয়। এদিন মূলতঃ স্প্রেয়ার মেশিনের সাহায্যে লবন জল ছিটিয়ে পার্থেনিয়াম গাছ নষ্ট করা হয়। পার্থেনিয়াম ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধি প্রকাশ পাত্র বলেন, গত কয়েক বছর আগেও এই জাতীয় গুল্ম আমাদের কাছে অপরিচিত ছিল। কিন্তু শেষ ক’বছরে তা বহুগুন বেড়ে গেছে। মূলতঃ মেক্সিকো থেকে গমের সাথে আসা এই পার্থে বছরে চারবার বীজ থেকে চারা তৈরী হয়। যা থেকে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই কম বেশী আক্রান্ত হচ্ছেন।

এলাকা জুড়ে উত্তরোত্তর পার্থেনিয়াম বৃদ্ধির পিছনে মানুষের অজ্ঞতাকে দায়ী করে প্রকাশ পাত্র বলেন, লবন জল দিয়ে এই গাছ যেমন মেরে ফেলা সম্ভব তেমনি চারা অবস্থায় হাতে গ্লাভস্ জাতীয় কিছু পরে শিকড় সমেত উপড়ে ফেলে পুড়িয়ে ফেললেও এর বৃদ্ধি অনেকটাই কমানো সম্ভব। মানুষের মধ্যে নানান রোগের সঞ্চার হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজ ফসল উৎপাদন ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যহত হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে কথা বলেছি। বিষয়টি সম্পর্কে তারাও উৎসাহ দেখিয়েছেন বলে তিনি জানান।

ওই সংগঠনের অন্যতম সদস্য শান্তি সোরেন বলেন, যেকোন মূল্যে পার্থেনিয়াম মুক্ত এলাকা গড়ে তুলতে হবে। সামান্য কম খরচে লবন ও জল দিয়ে স্প্রে করলে এই গাছ ধ্বংস করে নিরাপদ ও পার্থেনিয়াম মুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব। এবিষয়ে তারা বিভিন্ন সরকারি দফতর ও বনবিভাগের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে তিনি জানান।