তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: এখনও পাকাপাকিভাবে শীত পড়েনি রাজ্যে৷ রবিবারের আগে নতুন করে পারদ নামার সম্ভাবনাও ক্ষীণ৷ তবে পর্যটন মরশুমের শুরুতে পর্যটকদের ঢল নামতে শুরু করেছে বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড়ে। পাহাড়, পাহাড়ি ঝর্ণা, জঙ্গল আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ফি বছরের মতো এবার পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে শুশুনিয়ায়৷

বাঁকুড়ার এই শুশুনিয়া পাহাড় চত্বর বরাবরই পাথরের মূর্তি তৈরির জন্য বিখ্যাত। এলাকার বহু বাসিন্দা পাথর শিল্পের সঙ্গে সরাসরিভাবে যুক্ত৷ গৃহস্থালির সামগ্রী, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস, ঘর সাজানোর উপকরণ বা বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি তৈরিতে এই এলাকার বাসিন্দাদের জুড়ি মেলা ভার৷ ৷ প্রতি বছর শুশুনিয়া পাহাড়ে বেড়াতে আসা পর্যটকরা বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় শিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের জিনিস নিয়ে যান। এলাকার শিল্পীরা সাধারণত রাস্তার ধারে তাঁবু খাটিয়ে নিজেদের শিল্প কর্ম তৈরি ও বিক্রি করেন। এলাকার পাথর শিল্পীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি শিল্প দফতর এই এলাকায় ২০টিরও বেশি স্টল তৈরি করেছে। কিন্তু এখনও সেই স্টল শিল্পীদের মধ্যে বণ্টন না হওয়ায় বাড়ছে ক্ষোভ৷

শুশুনিয়া পাহাড় চত্বরে শিল্পীদের স্টল বন্টন নিয়ে স্থানীয় শিল্পী-ব্যবসায়ীদের একাংশ শাসক দলের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন। শুশুনিয়ায় তৈরি হয়েও পড়ে থাকা স্টল নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে৷ স্থানীয় পাথরশিল্পী সমর কর্মকার জানান, পুজোর আগেই স্টলগুলি বিলি করার কথা হয়েছিল। কিন্তু পর্যটন মরশুম শুরু হয়ে গেলেও এখনও ওই স্টল তালাবন্ধ হয়েই পড়ে রয়েছে। স্টল তৈরি হয়ে গেলেও এখনও সেগুলি এলাকার শিল্পীদের মধ্যে বিলি না করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি৷ এলাকার আর এক পাথরশিল্পী জঙ্গল কর্মকার জানন, শুশুনিয়ায় সরকারি লজ চালু হয়ে গিয়েছে৷ অথচ প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও শিল্পীদের স্টলের চাবি দেওয়া হল না৷

এদিকে শুশুনিয়ায় সরকারি স্টল বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ তুলেছেন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার৷ স্টল বণ্টন নিয়ে কাটমানি নেওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি সাংসদ৷ দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ তৃণমূল নেতাদের দাবি মতো টাকা দিতে না পারায় শিল্পীদের সরকারি স্টল দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ বিজেপি সাংসদের৷

যদিও বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকারের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ও বাঁকুড়ার তৃণমূল নেতা শ্যামল সাঁতরা৷ তিনি জানান, সম্প্রতি শুশুনিয়ায় স্টল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে ওই স্টল এলাকার শিল্পীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বাঁকুড়ার জেলাশাসক জানান, স্টল প্রাপকদের তালিকা তৈরি আছে। দ্রুত সেই শিল্পীদের হাতে স্টলের চাবি তুলে দেওয়া হবে৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ