তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: প্রতিবারের মতো এবারও বাঁকুড়ায় পাহাড় চড়ার ধুম। পাহাড় চড়া শিখতে শুশুনিয়া পাহাড়ে ভিড় বাড়ছে উৎসাহীদের। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্বতারোহী সংস্থার তরফে শুশুনিয়া পাহাড়ে চলে প্রশিক্ষণ। বাঁকুড়ার ছাতনা থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে বাঁকুড়া-পুরুলিয়া রোডের ধারে ৪৪৮ মিটার উঁচু এই পাহাড়ে এবছরও শুরু হয়েছে পর্বতারোহন প্রশিক্ষণ শিবির। একটি বেসরকারি সংস্থার তরফে নানা বয়সী মানুষজনকে দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ।

ক্রমেই পর্বতারোহন নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। আর এটা আরও বেশ করে বোঝা যায় বাঁকুড়ায় গেলে। রাজ্যে পর্বতারোহন প্রশিক্ষণের অন্যতম আদর্শ জায়গা বাঁকুড়ার শুশুনিয়া। ফি বছর শুধুমাত্র পাহাড় চড়া শিখবেন বলেই শুশুনিয়া পাহাড়ে ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বেসরকারি সংস্থার আয়োজনে আবাসিক এই শিবিরে প্রথমবার যোগ দিয়েছেন অর্চিস্মান কুণ্ডু, সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তাঁরা জানলেন, শুশুনিয়া পাহাড়ে রক ক্লাইম্বিং শিবিরে যোগ দিয়ে তাঁরা বেশ খুশি। শুশুনিয়া পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে কিছু ভাঁজ আছে যা এভারেস্টের মতোই। প্রায় একই কথা বলেন, সরকারি নার্সিং ট্রেনিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী চান্দ্রেয়ী থেকে প্রিয়া মিত্ররা। তাঁরা জানালেন, রহস্য, রোমাঞ্চ আর ভরপুর আনন্দে মোড়া এই প্রশিক্ষণ নিতে তাঁরাও বেশ উৎসাহিত। প্রথমদিকে সামান্য ভয় লাগলেও প্রশিক্ষকদের সাহায্য ও উৎসাহে সেই ভয় নিমেষে উধাও হয়েছে।

এদিকে শুশুনিয়া পাহাড়ে পর্বতারোহন প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার। বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘রক্ ক্লাইম্বিং’ শিখতে এসে ছেলেমেয়েরা নিজেদের তৈরি করতে পারবে।’ যুব সমাজের মধ্যে শরীর চর্চার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগের যথেষ্ট প্রয়োজন আছে বলে তিনি জানান।

শীত পড়তেই বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর, মুকুটমণিপুর, ঝিলিমিলি-সহ একাধিক এলাকায় ঢল নামে পর্যটকদের। বর্তমান রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এখন পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে একাধিক বন্দোবস্ত হয়েছে। পর্যটকদের থাকার জায়গা থেকে শুরু করে তাঁদের স্বাচ্ছন্দের কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজানো হয়েছে পর্যটনকেন্দ্রগুলি। পরিবহণ ব্যবস্থাও আগের চেয়ে অনেক বেশি মসৃণ হয়েছে।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।