তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া :

‘ওঁ বালরূপাঞ্চ ত্রৈলোক্যসুন্দরীং বরবর্নিনীম্ ।
নানালঙ্কার ভূষাঙ্গীং ভদ্রবিদ্যা প্রকাশিনীম্ ।।
চারূহাস্যাং মহানন্দহৃদয়াং শুভদাং শুভাম্ ।

ধ্যায়েৎ কুমারীং জননীং পরমানন্দরূপিনীম্ ।।’ মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও দীর্ঘ ধারাবাসহিকতা মেনে নবমী তিথিতে শাস্ত্র মতে কুমারী পুজো অনুষ্ঠিত হলো বাঁকুড়া শহরের ব্যাপারীহাট সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজোয়।

এবার এখানে ‘কুমারী রুপে পুজিতা হলেন ওন্দা থানা এলাকার হাতিবাড়ি গ্রামের ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী সাথী আচার্য।

শাস্ত্রমতে, কুমারী পূজার উদ্ভব হয় কোলাসুরকে বধ করার মধ্য দিয়ে। কথিত আছে, কোলাসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বিপন্ন দেবতারা মহাকালীর স্মরণাপন্ন হন। তিনি দেবতাদের আবেদনে সাড়া দিযে় পুনর্জন্মে কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়।

ব্যাপারীহাট সার্বজনীন পূজা কমিটি সূত্রে খবর, শুরুর দিন থেকে এখানে নবমী তিথিতে কুমারী হয়েছে। এবছর করোনা পরিস্থিতির কারণে স্থানীয়দের অনেকে নিজের মেয়েকে কুমারী পুজোয় অংশ গ্রহণ করাতে চাইছিলেননা। পরে ওন্দার হাতিবাড়ি গ্রামের সাথী আচার্যের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

এবারের ‘কুমারী’ সাথী আচার্য খুশি এই পুজোয় অংশ নিতে পেরে। তার কথায় খুব ভালো লেগেছে।

সাথী আচার্যের বাবা সূদর্শণ আচার্য বলেন, ‘সব মায়ের ইচ্ছে’। বাঁকুড়া শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বাড়ি। মায়ের ইচ্ছে না থাকলে কোনভাবেই যোগাযোগ সম্ভব হতোনা বলে তিনি দাবি করেন।

ব্যাপারীহাট সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সম্পাদক দিলীপ আগরওয়াল বলেন, ৪৭ বছরের এই পুজোয় শুরুর দিন থেকে কুমারী পুজো হয়ে আসছে। এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেকেই এই পুজোয় অংশ নিতে রাজী ছিলেননা। কিন্তু পরে সমস্যার সমাধান হয়। চলতি অতিমারির কারণে সমসাভ্ত ধরণের সরকারী বিধিনিষেধ মেনেই পুজো হয়েছে বলে তিনি জানান।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।