তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া : আলোর কারিগরের ঘরেই অন্ধকার! বাঁকুড়া-২ ব্লকের স্যাঁতরা গ্রামের রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত মৃৎশিল্পী প্রয়াত কালীপদ মিস্ত্রির বিধবা স্ত্রী গত দু’বছর ধরে সরকারি পেনশন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। ব্লক প্রশাসনের উদাসীনতার জন্যই এই পেনশন মিলছে না বলে অভিযোগ মিস্ত্রি পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, বারবার ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও প্রয়োজনীয় শংসাপত্র পাওয়া যায়নি।

বাঁকুড়া শহরের পাশেই সানবাঁধা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার স্যাঁতরা গ্রামের মৃৎশিল্পী কালীপদ মিস্ত্রি ১৯৮৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামস্বামী ভেঙ্কটরমনের হাত থেকে পুরস্কার পান। তাঁর তৈরি ‘বোঙা হাতি’ তাঁকে মৃৎশিল্পী হিসেবে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছিল। এই ‘বোঙা হাতি’ রুদ্র মূর্তি নয়। যেন চিন্তাগ্রস্ত মহাকাল।

পড়ুন: বাঁকুড়ায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা

কালীপদবাবু রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাওয়ার পরও অভাব তাঁর সংসারের পিছু ছাড়েনি। প্রাপ্তি বলতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রদত্ত সামান্য কিছু পেনশনের টাকা। কয়েক বছর আগে কালীপদ মিস্ত্রি মারা যান৷তাঁর স্ত্রী শেফালীদেবী ওই পেনশন পেতেন৷কিন্তু গত দু’বছর সেই পেনশনও বন্ধ। বাঁকুড়া-২ ব্লক প্রশাসনের তরফে তাঁর মায়ের সঠিক আয়ের শংসাপত্র না দেওয়াকেই দায়ী করছেন শেফালীদেবীর ছেলে স্বপন৷

বেশ কয়েকবার মৃৎশিল্পী হিসেবে রাজ্যস্তরের পুরস্কার পেয়েছন বিজয়ী স্বপন মিস্ত্রি৷ তিনি বলেন, ‘‘মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে কোনওরকমে সংসার চালাই। ছেলে এমএ পাশ করে বাড়িতে বসে আছে। কোনও কাজ নেই। রোজগার বলতে আমার তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি আর মায়ের সামান্য টাকা পেনশন। তাও দু’বছর বন্ধ। ব্লক প্রশাসনের তরফে মায়ের একটা সঠিক শংসাপত্র দিলেই পেনশন পুনরায় চালু হয়ে যায়।’’

পড়ুন: বাঁকুড়ায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল তিন আদিবাসী তরুণীর

কেন্দ্রীয় টেক্সটাইল বিভাগের দেওয়া এই পেনশনের জন্য ব্লক প্রশাসনের তরফে বাৎসরিক ত্রিশ হাজার টাকার নিচে আয়ের একটি শংসাপত্র প্রয়োজন। সেটাই দিতে ব্লক প্রশাসন গড়মসি করছে বলে অভিযোগ৷ কিন্তু যে শংসাপত্র ব্লক প্রশাসন দিয়েছে, তাতে ওই পেনশন মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্বপনবাবু৷তাঁর প্রশ্ন, ‘‘আমার মায়ের তো বাৎসরিক এক টাকাও রোজগার নেই। তাহলে ওই শংসাপত্র দিতে অসুবিধা কোথায়?’’

এ বিষয়ে জানতে বাঁকুড়া-২ ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। তাই তাঁদের বক্তব্য জানা যায়নি।